
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি ৩’-র তৃতীয় কিস্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। ছবির স্বত্ব ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ‘হেরা ফেরি ৩’-এর ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা এবং দক্ষিণী প্রযোজনা সংস্থা ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর মধ্যে এই দ্বন্দ্ব ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সূত্রের খবর, ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা মুম্বইয়ের আম্বোলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন যে, তাঁর বৈধভাবে কেনা ‘হেরা ফেরি’ ছবির কপিরাইট ও রিমেক স্বত্ব জোর করে দখল করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ১৯৮৯ সালের মালয়ালাম ছবি ‘রামজি রাও স্পিকিং’-এর ভিত্তিতে নির্মিত এই গল্পের বিভিন্ন ভাষায় রিমেক করার অধিকার তিনি বহু আগেই আইনিভাবে কিনে নিয়েছিলেন।
নাদিয়াদওয়ালার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০০ সালে ‘মেসার্স কমপ্যাক্ট ডিস্ক ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর সুরেশ কুমার সিংঘলের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হিন্দি এবং দক্ষিণী ভাষা ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় এই গল্পের রিমেক স্বত্ব আইনিভাবে কিনে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০০ সালে ‘হেরা ফেরি’ মুক্তি পাওয়ার ঠিক সাত দিন আগে ক’জন ব্যক্তি জোরজুলুম করে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। সেই সময়ে ছবিটিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়ে গিয়েছিল। তাই মানহানি এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আদালতের পক্ষ থেকে আমার অনুকূলে স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও, আমাকে চাপের মুখে পড়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ২৫ বছর পর আবারও সেই বিষয়টি কেন মাথাচাড়া দিল?

এপ্রসঙ্গে নাদিয়াদওয়ালার অভিযোগ, মূল ছবিটির স্বত্বাধিকারী সিদ্দিক কেএল এবং এম পল মাইকেল, যাঁরা উভয়েই জানতেন যে ছবিটির স্বত্ব অনেক আগে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, তাঁরা ২০২২ সালের ১২মে ‘মেসার্স সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল’-এর গোপালা পিল্লাই বিজয়কুমারের কাছে পুনরায় সেই স্বত্ব ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। প্রযোজকের অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার গোপালা পিল্লাই বিজয়কুমার এবং এম পল মাইকেলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ৩১৮(৪), ৩৫৬ এবং ৩(৫) ধারার অধীনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ফিরোজ এও অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি একটি আইনি নোটিস পান, যেখানে তাঁর প্রযোজিত ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফির হেরা ফেরি’কে ‘অবৈধ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এবং আমার কাছে ৬০ লক্ষ টাকা এবং ছবিটির মোট লাভের ২৫ শতাংশ দাবি করেছিল। পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে, অভিনেতা অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি এবং পরেশ রাওয়ালের নাম ব্যবহার করে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে, যা তাঁর পেশাগত সুনাম নষ্ট করছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। শ্রীঘ্রই অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, আইনি টানাপোড়েনের জেরে ‘হেরা ফেরি ৩’-এর মুক্তি এখন অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
