
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রচণ্ড গরমে দুপুরবেলা অনেকেরই খাওয়ার ইচ্ছে একেবারে উধাও হয়ে যায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। ভাতের সঙ্গে মাছ বা ভারী রান্না দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয় তারা। এমন সময় খাবারে যদি একটু টক-ঝাল স্বাদ যোগ করা যায়, তাহলে কিন্তু মুহূর্তেই ফিরে আসতে পারে রুচি। গরমের মরশুমে কাঁচা আম এমনই এক উপাদান, যা খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরেও এনে দেয় স্বস্তি। আর সেই কাঁচা আম দিয়েই যদি তৈরি হয় কাতলা মাছের হালকা ঝোল, তাহলে দুপুরের খাবার হয়ে উঠতে পারে একেবারে জমজমাট।
রান্নার আগে হাতের কাছে রাখুন এই উপকরণগুলি, তরতাজা কাতলা মাছ, আঁটি ছাড়ানো কাঁচা আমের ফালি, কালো ও সাদা সর্ষে, কাঁচা লঙ্কা, হলুদ, নুন, সামান্য চিনি, শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো এবং সর্ষের তেল। রান্নার শুরুতে বাজার থেকে আনা মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর নুন এবং হলুদ মাখিয়ে মাছগুলোকে অন্তত ১০ মিনিটের জন্য ম্যারিনেট করে রেখে দিন। এতে মাছের ভেতরে নুন-হলুদ ভালোভাবে ঢুকবে। মাছ ম্যারিনেট হতে হতে কাঁচা আমের ফালিগুলো মিক্সার বা ব্লেন্ডারে দিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে ম্যারিনেট করা মাছের টুকরোগুলো হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন।
মাছ ভাজার পর কড়াইয়ের অবশিষ্ট তেলের মধ্যে সামান্য কালো সর্ষে ফোড়ন দিন। ফোড়ন থেকে সুগন্ধ বেরোলে তৈরি করে রাখা কাঁচা আমের পেস্টটি কড়াইতে ঢেলে দিন এবং হালকা করে ভাজতে থাকুন। আমের কাঁচা ভাব কেটে গেলে স্বাদ ও ঝাল অনুযায়ী কাঁচা লঙ্কা চেরা, হলুদ ও শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো দিন। এরপর কালো ও সাদা সর্ষে বাটা দিয়ে মশলা সামান্য কষিয়ে নিয়ে পরিমাণমতো নুন, চিনি এবং জল ঢেলে দিন।
ঝোল ভালোভাবে ফুটে উঠলে ভেজে রাখা কাতলা মাছের টুকরোগুলো তার মধ্যে ছেড়ে দিন। মাঝারি আঁচে আরও ৫ মিনিট ফুটিয়ে ঝোল মাখামাখা হয়ে এলে নামিয়ে নিন। ব্যাস, গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশনের জন্য তৈরি জিভে জল আনা আম কাতলা! অল্প সময়েই সহজ উপায়ে তৈরি হয়ে যাবে এই গরমের স্পেশাল পদ। পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফোটাতে আজই ট্রাই করতে পারেন কাঁচা আমের কাতলা ঝোল।
