
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মাসিক বা পিরিয়ড প্রতিটি নারীর স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে এই সময়টিতে সামান্য অসতর্কতাও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, মাসিক চলাকালীন পরিচ্ছন্নতার অভাব, একই প্যাড বা ট্যাম্পন দীর্ঘ সময় ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নানা সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের কথায়, পিরিয়ডের সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায়। সাধারণভাবে প্রতি চার থেকে ছয় ঘণ্টা অন্তর স্যানিটারি প্যাড পরিবর্তন করা উচিত। একই প্যাড দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে আর্দ্র পরিবেশে জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা যোনিতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ায়। এর ফলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই), ফাঙ্গাল সংক্রমণ কিংবা তীব্র অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
১। ভুলভাবে পরিষ্কার করাও ক্ষতিকর: অনেকেই এই সময় অতিরিক্ত সাবান বা কেমিক্যালযুক্ত তরল দিয়ে যোনি পরিষ্কার করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি আরও বেশি ক্ষতিকর। যোনির স্বাভাবিক পিএইচ ব্যালান্স নষ্ট হলে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাধারণ পরিষ্কার জলই যোনি পরিষ্কারের জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা।
২। খাবারে অবহেলা করলে কষ্ট বাড়ে: পিরিয়ডের সময় পেটব্যথা, গ্যাস বা দুর্বলতা বাড়ার অন্যতম কারণ ভুল খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত ভাজাভুজি, ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার বা ফাস্টফুড খেলে সমস্যা বাড়ে। পুষ্টিবিদদের মতে, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার, শাকসবজি, ফল ও পর্যাপ্ত জল শরীরকে ভালো রাখে। জল কম খেলে মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
৩। বিশ্রাম দরকার, কিন্তু শুয়ে থাকলেই চলবে না: অনেকেই পিরিয়ডের সময় সারাদিন শুয়ে থাকতে চান। আবার কেউ কেউ একেবারেই বিশ্রাম নেন না। চিকিৎসকদের মতে, দুটোই ঠিক নয়। হালকা হাঁটা, সাধারণ স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম পেটব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে ভারী ব্যায়াম বা অতিরিক্ত কাজ এই সময় এড়িয়ে চলা উচিৎ বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
৪। কখন সতর্ক হবেন: যদি প্রতি মাসে পিরিয়ডের সময় অসহনীয় ব্যথা হয়, পিরিয়ড সাত দিনের বেশি সময় ধরে চলে, রক্তপাতের পর শরীর যদি খুব দুর্বল লাগে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এগুলি হরমোনের সমস্যা বা অন্য কোনও জটিল রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
মাসিক লজ্জার নয়, সচেতনতার বিষয়—এই বার্তাই দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সামান্য সতর্কতা ও সঠিক অভ্যাসই পারে সংক্রমণ ও ভবিষ্যতের জটিলতা থেকে রক্ষা করতে।
