
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রোগা হওয়ার কথা ভাবলেই প্রথম যে পরামর্শটি শোনা যায়, তা হল মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করা। অনেকেই ডায়েট শুরু করেই চিনি বাদ দেন—রান্নায় চিনি নেই, ফ্রিজে চকোলেট বা মিষ্টির ঠাঁই নেই। এতে ওজন কমা কিছুটা সহজ হয়, তা সত্যি। কিন্তু বাঙালির জীবনে মিষ্টির গুরুত্ব আলাদা। জন্মদিন, বিয়ে, পুজো কিংবা সাধারণ অতিথি আপ্যায়ন—মিষ্টিমুখ ছাড়া যেন কোনও অনুষ্ঠানই সম্পূর্ণ নয়। তাই দীর্ঘদিন মিষ্টি থেকে দূরে থাকা অনেকের কাছেই কঠিন হয়ে ওঠে। এই জায়গাতেই স্বস্তির খবর দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁদের মতে, মিষ্টি পুরোপুরি বাদ না দিয়েও ছিপছিপে থাকা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু কিছু নিয়ম মেনে চলা এবং সঠিক সময় বেছে নেওয়া।
১) সবার শেষে মিষ্টিমুখ: প্রথমে পেট ভরে প্রোটিন ও সব্জি খেতে হবে। প্রোটিন এবং সব্জি ‘মেটাবলিক বাফার’ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এগুলি মিষ্টি খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের আকস্মিক বৃদ্ধি হতে বাঁধা দেয়। তাই মিষ্টিমুখ হোক শেষেই।
২) সঠিক ধরনের চকোলেট বেছে নিতে হবে। ডার্ক চকোলেট একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প, কারণ এতে মিল্ক বা হোয়াইট চকোলেটের তুলনায় কম চিনি থাকে। কম চিনি এবং পলিফেনল ও ফাইবারের উপস্থিতির ডার্ক চকোলেটের একটি ছোট টুকরো (১০-১৫ গ্রাম) খেলেই মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মেটে, অথচ রক্তে গ্লুকোজের উপর তেমন কোনও প্রভাব পড়ে না।
৩) শীতকাল মানেই কেক-পিঠে খেতে মন চায়। যারা খাবারে মিষ্টি দিতে হলে স্টিভিয়া, সুক্রালোজ এবং মঙ্ক ফ্রুটের মতো ক্যালোরিবিহীন মিষ্টি ব্যবহার করার করা যেতে পারে।
৪) রোগা হওয়ার ইচ্ছা থাক বা না থাক, মিষ্টি খাওয়ার সঠিক সময় হল সকালবেলা। সকালের দিকে বিপাকহার বেশি থাকে। সেই কারণে সকালে মিষ্টি খেলেও তা বাড়তি মেদের কারণ হয়ে উঠবে না। রাতে মিষ্টি খাওয়া হল সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর ব্যাপার। নৈশভোজে মিষ্টি খেতে বারণ করেন পুষ্টিবিদেরা।
৫) মিষ্টি খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে হাঁটাচলা করতে পারেন। তাই মিষ্টি খাওয়ার পরেই ঘুমোতে গেলে চলবে না। খানিক ক্ষণ হাঁটাহাঁটিও করতে হবে।
