
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন করে ফের বাংলায় চোখ রাঙাচ্ছে মারাত্মক নিপা ভাইরাস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে দু’জনের শরীরে এই সংক্রমণ মিলেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
কী এই নিপা ভাইরাস?
নিপা একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।
কীভাবে ছড়ায়?
বাদুড় বা বাদুড়ের বিষ্ঠার সংস্পর্শে আসা ফল খেলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এই রোগ হতে পারে। আক্রান্ত শূকর বা বাদুড়ের থেকেও সরাসরি মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।

উপসর্গ:
১) জ্বর, শ্বাসকষ্ট, প্রবল মাথার যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব, কাফ মাসলে ব্যথা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখমণ্ডলের পেশি সঙ্কুচিত হওয়া।
২) জ্বর বাড়তে থাকলে ভুল বকা শুরু হয়, স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে, মৃগী রোগীর মতো খিঁচুনি শুরু হয়। এনসেফেলাইটিসের লক্ষণ দেখা যায়। শেষে কোমায় চলে যায় রোগী। পরিসংখ্যান বলছে, ৪০-৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো যায় না।
চিকিৎসা: কোনও ওষুধ বা প্রতিষেধক নেই। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই একমাত্র সম্বল। ভেন্টিলেটর সুবিধাযুক্ত আইসিইউ বেডে রেখে রোগীর চিকিৎসা করতে হবে। দু’একজন চিকিৎসক ‘রাইভা ভিরিন’ -সহ কয়েকটি অ্যান্টি ব্য়বহারে প্রয়োগ করে সাফল্য পেয়েছেন বলেই দাবি।
মোকাবিলা: বাদুড় ও শূকরের সংস্পর্শে আসা চলবে না। এই দুই প্রাণীর মাংস ভক্ষণ নৈব নৈব চ। বাদুড়ে ঠোকরানো ফল বা বাদুড়ের বিষ্ঠামাখা ফল খাওয়া চলবে না। কাটা ফল থেকে দূরে থাকাই ভালো। ফলের রস কিনে খাওয়া চলবে না। খেজুর বা তালের রসও খাওয়া যাবে না।
