Game

2 years ago

2003 cricket world cup:ফিরে দেখা ২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ, ভারতকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয় করে

Review 2003 cricket world cup, Australia won the world cup for the third time after defeating India
Review 2003 cricket world cup, Australia won the world cup for the third time after defeating India

 

কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বর : ২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি ২৩ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারারস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৪৮ রানে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কেনিয়াকে ৯১ রানে হারিয়ে ভারত ফাইনালে পৌছায়। ভারতের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি টস জিতে বোলিং-এর সিদ্ধান্ত নেন। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিং-এর অপরাজিত ১৪০ এবং ডেমিয়েন মার্টিনের অপরাজিত ৮৮ রানে ২৩৪ রানের পার্টনারশিপে অস্ট্রেলিয়া করে ৩৫৯ রান। তার জবাবে ভারত করে ৩৯.২ ওভারে ২৩৪ রান । এতে অস্ট্রেলিয়া ভারতকে ১২৫ রানে হারিয়ে জিতে নেয় তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি।পন্টিং ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন। আর ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান তোলা ভারতের শচীন টেন্ডুলকার।

গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত দুই দলই ছিল পুল-"এ"তে । অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ পর্বের ইংল্যান্ড বিপক্ষে ছাড়া সব ম্যাচ সহজেই জিতে নেয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৩৫ রান করে। অপরদিকে ভারতের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। প্রথম ম্যাচেই হল্যান্ডের বিপক্ষে শচীনের অর্ধশতের পরেও ২০৪ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে হল্যান্ড ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায়। পরের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২৫ রানে গুটিয়ে যায় এবং ৮ উইকেটে হেরে যায় ম্যাচটি। এতে ক্ষুদ্ধ ভারতীয়রা মোহাম্মদ কাইফের বাড়িতে এবং রাহুল দ্রাবিডের গাড়ি ভাংচুর করে। ভারত অবশ্য পরের চারটি ম্যাচে জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, নামিবিয়া ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পুলের তৃতীয় দল হয়ে সুপার সিক্স পর্বে উঠে।পুল "বি" থেকে, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া ও নিউজিল্যান্ড সুপার সিক্সের যোগ্যতা অর্জন করে।

সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া রিকি পন্টিং-এর অপরাজিত ১১৪ এবং গিলক্রিস্টের ৯৯ রানে ৫ উইকেটে ৩১৯ রান তুলে। জবাবে শ্রীলঙ্কা ৪৭.৪ ওভারে ২২৩ রান তুলেছিল। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে। এ ম্যাচে শন বন্ড ২৩ রানে ৬ উইকেটে নিলে এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৮৪। তারপরেও মাইকেল বেভান ও এন্ড্রু বিকেল অস্ট্রেলিয়াকে ২০৮ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। জবাবে ব্রেট লিয়ের ৪২ রানে ৫ উইকেটের সুবাদে নিউজিল্যান্ড ১১২ রান করে। অস্ট্রেলিয়া ৯৬ রানে জিতে যায়। এ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে কেনিয়াকে ১৭৪ রানে অলআউট করে দিয়ে ৫ উইকেটে জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

ভারত প্রথম ম্যাচে কেনিয়াকে হারায়। কেনিয়া টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২২৫ করে। জবাবে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারালেও গাঙ্গুলীর অপরাজিত ১০৭ এবং যুবরাজ সিংহের অপরাজিত ৫৮ রানে ম্যাচ জিতে যায়।পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৮৩ রানের ব্যবধানে হারায়। নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে বোলিং নেয় এবং জহির খানের ৪২ রানে ৪ উইকেটের সুবাদে ১৪৬ রানে আটকে রাখে নিউজিল্যান্ডকে। জবাবে ২১ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত। পরে দ্রাবিড ও কাইফ জুটি ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে দেয়।

প্রথম সেমিফাইনাল:

১৮ মার্চের পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জ পার্ক-এ অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কার। অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১২ রান করে।সাইমন্ড করে অপরাজিত ৯১ এবং চামিন্দা ভাস ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন। ২১৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায়। এরপর বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৮.১ ওভারে ১৭২। কিন্তু ১২৩ রান করতে পারে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়া ৪৮ রানে জিতে ফাইনালে উঠে।

দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

২০ মার্চের ডারবানের কিংসমেড স্টেডিয়ামে ভারত ও কেনিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। কেনিয়া প্রথম অ-টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলতে নামে। ভারত টস জিতে ৪ উইকেটে ২৭০ করতে পারে। গাঙ্গুলী করেন অপরাজিতে ১১১ এবং শচিন করে ৮৩। জবাবে কেনিয়া ৪৬.২ ওভারে ১৭৯ রান করে। ভারত কেনিয়াকে ৯১ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে।


You might also like!