
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০০৪ সালের এক ভয়াবহ স্মৃতি আবার সামনে আনলেন বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম। পাকিস্তানের করাচিতে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কীভাবে প্রাণ হাতে করে ফিরেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি একটি ভিডিওর মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
১০ মার্চ, ২০০৪—করাচিতে নির্ধারিত ছিল সোনুর লাইভ পারফরম্যান্স। নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন গায়ক। ভক্তদের ভিড়ে তখন জমজমাট পরিবেশ। কিন্তু হঠাৎই অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি ঘটে যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, প্রাণ হারান কয়েকজন মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, অবাক করা সাহস দেখান শিল্পী ও দর্শক—দু’পক্ষই। ভয় কাটিয়ে মঞ্চে ওঠেন সোনু। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি পাশে থাকেন, আমি গান গাইব।” উত্তরে সমর্থনের গর্জনে ফেটে পড়ে প্রেক্ষাগৃহ।

এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গানে মাতিয়ে তোলেন তিনি—‘কভি খুশি কভি গম’, ‘কল হো না হো’, ‘ম্যায় হুঁ না’-র মতো গান গেয়ে শ্রোতাদের আবেগে ভাসান। আর পাঁচটা অনুষ্ঠানের মতো ‘সুরজ হুয়া মধ্যম’ গানটির সঙ্গে গলা মিলিয়েছিলেন উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকরা। উদ্বিগ্ন পরিস্থিতিতে মঞ্চে উঠে বলেছিলেন, “এই সন্ধ্যায় আমি আপনাদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করব। আপনাদের তাড়া নেই তো?” উত্তরে হল কাঁপিয়ে সাড়া দিয়েছিলেন অনুরাগীরা।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ফারকান সিদ্দীকীর কথায়, সেই ঘটনার পর প্রতি বছরই সোনু নিগম তাঁকে একটি বার্তা পাঠাতেন। যেখানে তিনি লিখতেন— “আমরা একসঙ্গে সেই দিন মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছিলাম। সেদিন হামলা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আমাকে বাঁচিয়েছিলেন পাকিস্তানিরাই।” বর্তমান ভারত-পাক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে সোনুর এই অভিজ্ঞতা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা নতুন করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে।
