
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় এক বছর ধরে কঠিন স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা কক্কড়। গত বছর তিনি নিজেই জানান যে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। দ্রুত অস্ত্রোপচার হয় তাঁর এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাস আগে ফের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর যকৃতে একটি টিউমার ধরা পড়ে। সেই টিউমারেরও সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবুও সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না পরিবার। সম্প্রতি স্বামী শোয়েব ইব্রাহিম আবারও তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার আপডেট ভাগ করে নিয়েছেন।
নিজেদের ভ্লগে শোয়েব জানান, দীপিকার সাম্প্রতিক রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, লড়াই এখনও শেষ হয়নি। শোয়েব বলেন, রিপোর্ট স্বাভাবিক আসা মানে এই নয় যে সবকিছু শেষ। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই অবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা। তাঁদের আবার চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা কী হবে তা ঠিক করতে হবে। তিনি জানান, এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি এবং ধৈর্য, মানসিক শক্তি ও নিয়ম মেনে চলাই এখন প্রধান ভরসা। স্বস্তির এই খবরে খানিকটা হালকা হলেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দীপিকা। কঠিন সময়ে শোয়েব যেভাবে তাঁর পাশে থেকেছেন, তা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীপিকা বলেন, সবসময় শোয়েব তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে পরিস্থিতি একদিন ঠিক হয়ে যাবে। অসুস্থতার দিনগুলোতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও স্বামীর সমর্থন তাঁকে বারবার উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

বর্তমানে নিজের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা নিয়ে অত্যন্ত কড়া নিয়ম মেনে চলছেন অভিনেত্রী। প্রতিদিন ভোর ৭টায় হাঁটা দিয়ে দিন শুরু করেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টার পর আর কোনও খাবার গ্রহণ করেন না। নিয়মিত বিশ্রাম, নির্দিষ্ট ডায়েট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এখন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। শোয়েব প্রায়ই তাঁর এই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের প্রশংসা করেন এবং তাঁকে উৎসাহ দেন। তাঁর মতে, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগে দীপিকাকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার জন্য শোয়েব তাঁকে রান্নাঘর থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, রান্না করা দীপিকার কাছে শুধু কাজ নয়, আনন্দের উৎস। তাই এখন আর তাঁকে রান্না করতে বাধা দেন না। বরং সীমিত পরিসরে নিজের পছন্দের কাজ করতে পারলে দীপিকা মানসিকভাবে আরও চাঙ্গা থাকেন বলেই মনে করছেন পরিবার।
ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দীপিকা জানান, “এখন আমাদের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। নতুন চিকিৎসা, শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া করবে, কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং কী কী সতর্কতা নিতে হবে, সেগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে।” আপাতত রক্ত পরীক্ষার স্বাভাবিক রিপোর্ট কিছুটা স্বস্তি দিলেও সামনে যে আরও পথ চলা বাকি, তা দু’জনেই জানেন। তবুও আশা হারাচ্ছেন না তাঁরা। দৃঢ় মনোবল ও পরিবারের সমর্থন নিয়েই ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চাইছেন দীপিকা।
