Breaking News

 

Entertainment

1 hour ago

Dev: ভাইরাল ভিডিওতে দেবকে ঘিরে বিতর্ক, ‘দাদা প্লিজ রাজনীতি ছাড়ুন’ বলছেন ভক্তরা

Dev
Dev

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ‘পরিবর্তনের ট্রেন্ড’কে পুঁজি করে ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন টলিউডের সুপারস্টার দেব। চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয়তা তাঁকে খুব দ্রুতই রাজনৈতিক ময়দানে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। সময়ের সঙ্গে তিনি কেবল একজন তারকা সাংসদ হিসেবেই নয়, বরং সাংসদীয় দায়িত্ব পালনে সক্রিয় একজন জন প্রতিনিধির পরিচয় গড়ে তোলেন।পরবর্তী এক দশকে দেব পরপর তিনবার লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিশমার শক্ত ভিত তৈরি করে। তৃণমূল শিবিরে তাঁর অবস্থানও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা দেয়। রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের উত্থান রাজনৈতিক আবহকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। এই পরিবর্তনের মধ্যেই দেবের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইনিংস নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে। একাংশের মতে, জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে গড়ে ওঠা তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি এখন নতুন বাস্তবতার সামনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে পড়েছে।

তৃণমূলের বিধ্বংসী হারের পর সোশাল পাড়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, দেবকে ঘিরে চোর চোর স্লোগান উঠেছে। পরনে কালো টিশার্ট। চোখেমুখে গাম্ভীর্য। নিরাপত্তা বলয় বেষ্টিত হয়ে মাথা হেঁট করে করজোড়ে ভিড় এড়ানোর চেষ্টা করছেন সুপারস্টার। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল, তবে নেটভুবনে দাবানল গতিতে ছড়িয়ে পড়া ওই ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত দেখে প্রশ্ন উঠেছে, দেবের মতো ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ করা সাংসদের কি এমন আচরণ প্রাপ্য? কারণ ১২ বছরের রাজনৈতিক ইনিংসে টলিউড সুপারস্টার দেখিয়ে দিয়েছেন সৌজন্যতা কাকে বলে? একদিকে যেমন প্রচারমঞ্চে কোনোদিন বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে কোনওরকম অপশব্দ প্রয়োগ করেননি, তেমনই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কলুষিত করার অভিযোগও কখনও ওঠেনি দেবের বিরুদ্ধে। সে চব্বিশের লোকসভা হোক বা একুশ কিংবা ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট, সবক্ষেত্রেই দলনেত্রীর কাজের খতিয়ান দেখিয়ে আমজনতার কাছে ভোটপ্রার্থনা করেছেন সুপারস্টার সাংসদ। আর তৃণমূলের হারের পর সেই নেতা-অভিনেতার সঙ্গেই কিনা অভব্য আচরণ? ভিডিও দেখে ভক্তদের একটাই অনুরোধ, ‘দয়া করে, আপনি এবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।’ কারও বা আর্জি, ‘এবার থেকে শুধু সিনেমার পর্দাতেই দেখতে চাই আপনাকে।’ এহেন নানা মন্তব্যে ছেয়ে গিয়েছে নেটভুবন।

আসলে আমজনতার কাছে তিনি ‘রাজনীতিক দেবে’র থেকেও অনেক বেশি শ্রদ্ধেয়, ভালোবাসার পাত্র ‘মানুষ দেব’। যখনই যেখানে গিয়েছেন অভিনেতাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে আমজনতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহেও লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়া ছেড়ে রাজ্যজুড়ে প্রচারের পিচে ঝড় তুলেছিলেন দেব। কাঠফাটা গরম উপেক্ষা করেই কখনও আকাশপথে, কখনও গাড়িতে, আবার কখনও বা পায়ে হেঁটেই আমজনতার দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সুপারস্টার সাংসদ। ‘সৌজন্যের পোস্টার বয়’কে দেখতে রাজ্যের উত্তর বলয় থেকে দক্ষিণে ভিড়ও উপচে পড়েছিল। এহেন জনসুনামির সাক্ষী দেব নিজেও প্রচারের মাঠে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘যেখানেই গিয়েছি জনতার প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে ভোটের ফল।’ কিন্তু শত দৌড়াদৌড়ি সত্ত্বেও রাজনীতির বক্স অফিসে ধাক্কা খেয়েছে দল। এমনকী নিজস্ব গড় ঘাটালেও গেরুয়া নিশান আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও ওয়াকিবহালমহলের অন্দরে ফিসফাস, আসলে জোড়াফুল ম্যাজিক নয়, প্রচারের পিচে এহেন জনস্রোত স্রেফ ‘খোকা’কে দেখার জন্যেই। কিন্তু জনতার এহেন রোষ যে ‘অভিনেতা দেবে’র জন্য নয়, বরং ‘রাজনীতিক দেবে’র জন্য, সেটা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, এই ভাইরাল ভিডিও কবেকার, সেটাও অস্পষ্ট।

You might also like!