
দ্বারকা, ২৪ ডিসেম্বর : গুজরাটের দ্বারকায় রবিবার মহারাসের রেকর্ড গড়েছেন আহির সম্প্রদায়ের মহিলারা। গুজরাটের দ্বারকার নাগেশ্বর রোডের রুকমিন মন্দিরের কাছে নন্দগাঁওয়ে অহির সম্প্রদায়ের মহিলারা রবিবার সকাল ৮টায় সর্বভারতীয় মহারাস সংস্থার কর্মসূচিতে রেকর্ড তৈরি করেছেন।
রবিবার সকালে নন্দগাঁওয়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে ৩৭ হাজারের বেশি মহিলা অহিরানী মহারাসেোর অনুষ্ঠান করেন। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ এই অসামান্য অনুষ্ঠানের সাক্ষী হন। সমাজের হাজার হাজার মহিলা একত্রে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নবলখী চুন্দ্রিসহ গলায় স্বর্ণালঙ্কার পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। এই অনুষ্ঠান দেখতে আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দুবাই থেকে মানুষজন এসেছিলেন। রবিবার ভোর পাঁচটা থেকেই এখানে মানুষজন আসতে শুরু করেছিল। এই অনুষ্ঠানে প্রথম বক্তৃতা দেন ব্রহ্মা কুমারী দিদি। এরপর মাঠে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।আহির সম্প্রদায়ের মহিলারা মহারাস গরবা পরিবেশন করে এবং রাস আকারে দ্বারকাধীশ ভগবান শ্রী কৃষ্ণের চরণে নিবেদন করে। দ্বারকার প্রাঙ্গণে এটি একটি বিশ্ব রেকর্ড বলে মনে করা হয়।
ব্রজে গোপীদের সঙ্গে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের নৃত্য বিশ্ব বিখ্যাত। দ্বারকায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্রবধূ এবং বানাসুর কন্যা ঊষা রাস অভিনয় করেছিলেন। এরপর গুজরাটে শুরু হয় গরবা। লোক মতে জানা যায় প্রায় ৫৫০ বছর আগে শ্রীকৃষ্ণ কচ্ছের ব্রজওয়ানিতে আহির সম্প্রদায়ের মহিলাদের সঙ্গে রাস খেলতে ঢোলি রূপে এসেছিলেন। তাঁর স্মরণে মহারাসের আয়োজন করা হয়। মহারাসের আগের রাতে জাগরণ অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে মালদে আহির রচিত শ্রীকৃষ্ণের লীলা বিষয়ক একটি নাটক পরিবেশিত হয়। এরপর ব্রজবাণী রাস পরিবেশন করেন সবীবেন আহির। অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দ্বারকার জগৎ মন্দির আলো দিয়ে সাজিয়ে আলোকিত করা হয়
