
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ইলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়ে জ্ঞানবাপী মামলায় ফের চাপে পড়ল সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এবং অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি।
জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে পুজো করার আর্জি জানিয়ে বারাণসী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল হিন্দু পক্ষ। তার বিরুদ্ধে ইলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এবং অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটি। মোট পাঁচটি আবেদন জমা পড়ে হাই কোর্টে। শুক্রবার সব ক’টি আবেদনই খারিজ করে দিল হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, আগামী ছ’মাসের মধ্যে মামলাটির শুনানি শেষ করার জন্য বারাণসী আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।
প্রসঙ্গত, দেশের অন্যত্তম প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের সরকার দেশকে সাম্প্রদায়িক বিপদ থেকে বাঁচাতে প্রণয়ন করেছিল ধর্মস্থান আইন। জ্ঞানবাপী মসজিদ কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের কাছে যে আরজি পেশ করেছে, তার ভিত্তিও ওই কেন্দ্রীয় আইন, যাতে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় অগুনতি ধর্মস্থানের চরিত্র যেখানে যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। কোনওরকম অদলবদল ঘটানো যাবে না। একমাত্র ব্যতিক্রম অযোধ্যা। সারার্থ, অযোধ্যা ছাড়া দেশের আর কোনও ধর্মস্থানের চরিত্র কোনওভাবেই বদলানো যাবে না।
সোমবারই জ্ঞানবাপীর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা নিয়ে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। তার পরের দিনই দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিল উচ্চতর আদালত। ১৯৯১ সালে জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে পুজো করার অনুমতি চেয়ে বারাণসী আদালতে মামলা দায়ের হয়। পালটা আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয় মুসলিম পক্ষও। তবে দীর্ঘ শুনানির পরেও জ্ঞানবাপী মসজিদের বিবাদ নিষ্পত্তি হয়নি। এহেন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার মুসলিম পক্ষের দায়ের করা মামলাগুলো খারিজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। মসজিদ চত্বরে মন্দিরের পুনর্নির্মাণ চেয়ে যে আবেদনগুলো জমা হয়ে রয়েছে, আগামী ৬ মাসের মধ্যে তার শুনানি শেষ করতে হবে বলেও বারাণসীর আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলাহাবাদ হাই কোর্ট জানায়, মসজিদ চত্বরটি হয় হিন্দু নয় মুসলিম- কোনও এক পক্ষের বৈশিষ্ট্যই বহন করবে। এভাবে মামলা চলতে থাকলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন মামলা চলার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভারতের বৃহত্তম দুই সম্প্রদায়ের উপর। তাই দ্রুত শুনানি করে ছমাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করে ফেলতে হবে।
