kolkata

1 hour ago

Samik Bhattacharya: ক্ষমতায় এসেই সতর্ক বঙ্গ বিজেপি, তৃণমূল থেকে যোগদান নিয়ে কড়া অবস্থান শমীক ভট্টাচার্যের

Samik Bhattacharya
Samik Bhattacharya

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। অঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ জয়, স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসের আবহ গেরুয়া শিবিরে। তবে এই জয়ের আবেগে ভেসে যেতে নারাজ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বরং সরকার গঠনের আগে থেকেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নে কঠোর বার্তা দিতে শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। বিশেষ করে অন্য দল থেকে যোগদান নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলবদলের জল্পনা নতুন কিছু নয়। বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে এই প্রবণতা বারবার সামনে এসেছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শোনা যাচ্ছে, বিভিন্ন দল থেকে বহু নেতা-কর্মী গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে আগ্রহী। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর তাদের একাংশের মধ্যে বিজেপিতে যোগদানের ইচ্ছা দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য—তৃণমূল থেকে কেউ বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে, তাঁকে দলে নেওয়া হবে না।

সূত্রের খবর, দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই সুযোগ বুঝে দলে আসতে চাইবেন, কিন্তু সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। দলের মতে, এই ধরনের যোগদান দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য, বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের একাধিক নজির রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং বা তাপস রায়ের মতো একাধিক নেতা একসময় তৃণমূল শিবিরে থাকলেও পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং নির্বাচনে জয়ীও হয়েছেন। আবার উল্টো ছবিও রয়েছে, যেখানে বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন অনেকে। পূর্ব মেদিনীপুরের পবিত্র কর ও চন্দন মণ্ডলের মতো নেতারা সেই উদাহরণ। যদিও এবারের নির্বাচনে তাঁরা পরাজিত হয়েছেন, তবুও তাঁদের ফের বিজেপিতে ফিরে আসার জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির কড়া অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দল ক্ষমতায় আসার পর ‘বেনোজল’ প্রবেশ ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে চাইছে বিজেপি। ফলে আপাতত স্পষ্ট, বাংলার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে দলবদলের দরজা সহজে খুলছে না গেরুয়া শিবিরে। 

শহর থেকে জেলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর, হামলা-মারামারি, রীতিমতো রক্তারক্তি কাণ্ড চলেছে রাতভর! এবার ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বার্তা দিলেন খোদ বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাফ জানালেন তিনি।

বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে। কেউ গণ্ডগোলে জড়িত থাকলে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল। তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সরকারিভাবে কাজ শুরু হবে শপথগ্রহণের পরই। এই কয়েকদিনে রাজ্য প্রশাসনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন মুখ্যসচিবের। হিংসা রুখতে তাঁকেও কঠোর পদক্ষেপ করার বার্তা দেন শমীক।

তিনি বলেন, “প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের যে স্বপ্ন ছিল, অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়েছে। দলের কর্মীদের বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না।”

সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপির বিধাননগরের দপ্তরে বঙ্গ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাও। হিংসা রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, মূলত তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনীতির রঙ না দেখে হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে। রাজ্যবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে সব স্তরেই বার্তা পাঠানো হয়েছে বিজেপির তরফে।

You might also like!