
মাজুলি (অসম) : ভারতের যুগযুগান্তের সৌহার্দ্যপূৰ্ণ আত্মা আধারে দেশের বিকাশ ঘটানোর ডাক দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত।
আজ সংঘের মাজুলি শাখার উদ্যোগে ‘লুইত সুবনশিরি সমাবেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন সংঘ-প্রধান মোহন ভাগবত। পূর্ণ গণবেশ (ইউনিফর্ম) পরিহিত কয়েকশো স্বয়ংসেবক এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে উপস্থিতদের কাছে জানতে চান, কঠোর সংগ্রাম ও পরিশ্ৰমের বলে স্বাধীনতা লাভ করার পর আমরা কি নিজদের ‘আত্মা’ বজায় রাখতে পেরেছি? সরসংঘচালক বলেন, দেশপ্ৰেম ও ঐক্য ছাড়া দীৰ্ঘমেয়াদি স্বাধীনতা বিপদে পড়বে। রাষ্ট্ৰীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের সমাজকে দেশপ্ৰেমী, সংগঠিত এবং জীবন্ত আত্মসম্মানে পরিপূৰ্ণ করতে জাগ্ৰত করা।
গুরুত্ব আরোপ করে ডা. ভাগবত বলেন, আমাদের ‘আত্মা’ আমাদের সময়-পরীক্ষিত পরম্পরাগত জ্ঞান ও সমগ্ৰ বিশ্বের সৰ্বশ্ৰেষ্ঠ জ্ঞানের দ্বারা সমৰ্থিত প্ৰজন্মগত প্ৰয়োজনীয়তার ওপর আধারিত হতে হবে। তিনি বলেন, ভরতের পাশাপাশি গোটা বিশ্ব থেকে সৰ্বশ্ৰেষ্ঠ জ্ঞান আহরণ করতে হবে। তাঁর সতর্কবার্তা, বিগত শতকে বস্তুবাদী আকাঙ্ক্ষার ওপর আধারিত ত্ৰুটিপূৰ্ণ মানদণ্ডের জন্য বিশ্ব আজ নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। ভারতীয় মতবাদে সমাজকে সর্বক্ষেত্রে আত্মনিৰ্ভরশীল হতে ক্ষমতা প্ৰদান করে।
স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংঘ-প্রধান বলেন, প্ৰাচীন ভারত তার ভৌগোলিক ভূখণ্ডের জন্য হিন্দুকুশ পৰ্বতমালা থেকে আরাকান পর্যন্ত বহিরাগতদের আক্ৰমণ থেকে সুরক্ষিত ছিল। তাই আমাদের পূৰ্বপুরুষদের আধ্যাত্মিক, শৈল্পিক এবং ভৌতিকভাবে বিকাশের শীৰ্ষে উপনীত হতে পৰ্যাপ্ত শান্তিপূৰ্ণ সময় দেওয়া হয়েছিল। রাসায়নিক সারের ওপরে আধারিত কৃষি বিকাশের কোনও প্ৰয়োজনই ছিল না, যা মানুষকে প্ৰভাবিত করে।
তিনি শ্রীমন্ত মহাপুরুষ শংকরদেব এবং বীর লাচিত বড়ফুকন প্রমুখের মতো আমাদের গৌরবোজ্জ্বল আইকনদের প্রদর্শিত মহান পথ অনুসরণ করার প্ৰয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেল। তিনি বলেন, মহান ভারতীয় মূল্যবোধ আমাদের দুহাতে উপাৰ্জন করতে এবং এক হাজার হাতে অবদান রাখতে শেখায়। আমাদের বিস্তৃত ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ‘সংযম’ এবং সঙ্গে ‘ঈশাবস্যম ইদাম সৰ্বম’ করার পরামৰ্শ দিয়েছে উপনিষদ। বহির্ভারতের মানুষ এই মহৎ মূল্যবোধগুলিকে হিন্দুত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ডা. মোহন ভাগবত বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য সমাজ ধৰ্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু ভারত বহু শতাব্দী দরে একে অনুসরণ করে আসছে।
জোরের সঙ্গে আরএসএস-এর সরসংঘচালক বলেন, সংঘ সমাজে কোনও পৃথক গোষ্ঠী গঠন করতে চায় না। বরং ব্যক্তিস্বাৰ্থ প্ৰবণতার বাইরে এসে সকলকে একত্ৰিত করে এবং বিশ্বকল্যাণের মাধ্যম হয়ে গোটা সমাজকে সংগঠিত করতে চায়।
আজকের সমাবেশে পূর্ণ গণবেশ পরিহিত স্বয়ংসেবকরা শারীরিক কলা-কৌশল, যোগ-ব্যায়াম প্ৰদৰ্শন করেছেন। প্ৰথমবারের মতো দুদিবসীয় মাজুলি সফর শেষে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় অনু্ষ্ঠানে যোগদান করতে সন্ধ্যার দিকে ডিব্ৰুগড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত।
