
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে বড় চমক দিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। দীর্ঘদিন বিজেপির দখলে থাকা আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তিনি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের শূন্য হওয়া আসনে ১৮ হাজার ৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি পেয়েছেন মোট ৬৩ হাজার ২০৩টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪ হাজার ২৫০ ভোট। অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারীর ঝুলিতে এসেছে মাত্র ১৪ হাজার ৮৫টি ভোট। এই ফলকে বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
গত এপ্রিলে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। যার জেরে বাঁকিপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে। ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ হয় এই কেন্দ্রে। তবে বাঁকিপুরে বিজেপির প্রার্থী নিয়েও একদফা নাটক চলে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর অভিষেক বান্টিকে সরিয়ে এই কেন্দ্রে নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। তবে প্রার্থী বদলেও বিজেপির যে বিশেষ সুবিধা হয়নি তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট। অথচ ১৯৯৫ সাল থেকে এখানে হারেনি বিজেপি। সেই সময় অবশ্য ওই কেন্দ্রের নাম ছিল পাটনা পশ্চিম। নবীনের বাবা কিশোর প্রসাদ সিনহা ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার এই কেন্দ্রের বিধায়ক হন। তাঁর মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে এখানে জয়ী হয়েছিলেন নীতীন। তার পর থেকে নীতীন ও বাঁকিপুর ছিল কার্যত সমার্থক শব্দ। এই অবস্থায় বাঁকিপুর ধরে রাখা ছিল বিজেপির কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
বলে রাখা ভালো, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পিকের দল শেষ করেছিল শূন্যয়। বিধানসভায় নির্বাচনে একটি আসনেও জিততে পারেনি জন সুরাজ পার্টি। অথচ ২৩৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল তারা। এদিন গণনা শুরুর পর থেকেই দেখা যায় পিকে এগিয়ে রয়েছেন। তখন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছিল ছবিটা। শেষে ৩১ রাউন্ডের গণনার পর দেখা গেল পিকেই জয়লাভ করেছেন।
