
নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট : দিল্লির নেহেরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরির নাম বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দল। পাল্টা ব্যাখ্যাও দিয়েছে শাসক দল। নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে গত ১৪ আগস্ট থেকে, এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি সোসাইটি নামেই এটি পরিচিত হবে।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (ইন-চার্জ) কমিউনিকেশন্স জয়রাম রমেশ বলেছেন, "একটি আইকনিক প্রতিষ্ঠান নতুন নাম পেয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি এখন প্রধানমন্ত্রী মেমোরিয়াল মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে। নেহরু এবং নেহরুভিয়ান উত্তরাধিকারকে অস্বীকার করা, বিকৃত করা, মানহানিকর করা এবং ধ্বংস করা প্রধানমন্ত্রী মোদীর এজেন্ডা।" কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেছেন, "এটা হতাশ মানসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু ছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছিল এবং তাঁর কার্যকালকে প্রতিফলিত করার জন্য একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হয়েছিল।" ভারতের সোনালী ইতিহাসকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সন্দীপের। আবার শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে শিবির) নেতা বলেছেন, "তাঁরা মহাত্মা গান্ধী, পন্ডিত নেহেরু, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং (বীর) সাভারকরের মতো ইতিহাস তৈরি করতে পারে না, তাই তাঁরা নাম পরিবর্তন করছে।"
এদিকে, বিরোধীদের ব্যাখ্যায় দিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেয়া রবিশঙ্কর প্রসাদ। রবিশঙ্কর বলেছেন, "কংগ্রেস দল, জয়রাম রমেশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিন্তাধারার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁরা (কংগ্রেস) শুধুমাত্র নেহরুজি এবং পরিবারকেই দেখে। মিউজিয়ামে নরেন্দ্র মোদী দেশের সব প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানজনক অবস্থান দিয়েছেন... লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কেন সেখানে জায়গা পাননি? সেখানে ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধী ছিলেন না, মোরারজি দেশাই বা চৌধুরী চরণ সিং বা অটল বিহারী বাজপেয়ী বা আই কে গুজরাল বা এইচডি দেবগৌড়া ছিলেন না... যখন সমস্ত প্রধানমন্ত্রী একটি জায়গা পাচ্ছেন, তখন এটি প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি লাইব্রেরি হয়ে উঠছে।
