Breaking News
 
Vivekananda Merit Scholarship :শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু হল বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ Chief Minister Suvendu Adhikari : র্নীতি ও কাটমানি খতিয়ে দেখতে কমিশন গড়লেন শুভেন্দু, সঙ্গে নারী নির্যাতন নিয়েও আলাদা কমিশন CM Suvendu Adhikari starts Janatar darbar : সল্টলেকে বিজেপি দফতরে শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’, জনতার সমস্যা শুনে মিলল স্বস্তি Suvendu Adhikary: “কাশ্মীরে বন্ধ হয়েছে, এখানেও হবে”—পার্ক সার্কাসে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি ,গ্রেফতার ৪০ Suvendu Adhikari :রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়, আর জি কর ইস্যুতে স্বাস্থ্যসচিবকে জরুরি তলব মুখ্যমন্ত্রীর Annapurna Bhandar : অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার স্কিমে নতুন ঘোষণা, ১ জুন থেকেই ৩ হাজার টাকা পাবেন নির্দিষ্ট উপভোক্তারা

 

West Bengal

59 minutes ago

Chief Minister Suvendu Adhikari : র্নীতি ও কাটমানি খতিয়ে দেখতে কমিশন গড়লেন শুভেন্দু, সঙ্গে নারী নির্যাতন নিয়েও আলাদা কমিশন

Chief Minister Suvendu Adhikari
Chief Minister Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুইটি পৃথক তদন্ত কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার। কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন কলকাতা হাই কোর্টের দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি ঘোষণা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই দু’টি তদন্ত কমিশনই আগামী ১ জুন থেকে কাজ শুরু করে দেবে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এই কমিশনের সদস্যসচিব করা হয়েছে রাজ্যের সিনিয়র আইপিএস কে জয়রামনকে। তিনি বর্তমানে এডিজি (উত্তরবঙ্গ) পদে রয়েছেন।পাশাপাশি নারী এবং শিশুকন্যাদের উপর অত্য়াচারের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনে তাঁর সঙ্গে সদস্যসচিব হিসাবে থাকবেন আইপিএস দময়ন্তী সেন। তিনি বর্তমানে এডিজি (আর্মড ফোর্স) পদে রয়েছেন।

গত সপ্তাহের সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠক শেষেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, দ্বিতীয় বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা হবে। বস্তুত, নির্বাচনের প্রচার পর্বে এই দুই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে রাজ্যবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এ বার সরকার গঠনের ১০ দিনের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি মতো দুই তদন্ত কমিশন গঠন করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অর্থে নির্মাণকাজে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নানারকম পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। কাটমানি নেওয়া হয়েছে। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হয়েছে। সরকারি তহবিলের অপচয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি আধিকারিক, পঞ্চায়েত, কাউন্সিলর, দালাল অনেকে যুক্ত ছিলেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কমিশন তৈরির কথা ছিল।” সেই লক্ষ্যেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বসুর নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য গঠিত এই কমিশনকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক, পরিকাঠামোগত সাহায্য দেবেন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব। প্রয়োজনীয় লোকবল এবং নথিপত্র দিয়েও সহযোগিতার কথা বলেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি আশা করব, এই কমিশন তার ফাংশনিং শুরু করার ত৩০ দিনের মধ্যেই সুপারিশগুলি দিতে শুরু করবে। তার ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এফআইআর রুজু করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যথাযথ ধারা অনুযায়ী আমরা অ্যাকশনও নেব।”

ভোটের আগে বিজেপি জানিয়েছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তারা মহিলাদের জন্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে। সেই প্রতিশ্রুতি মতো মহিলা এবং শিশুকন্যাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠনের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তারা (কমিশন) পুরো অফিস চালু করে দিলে, ডেডিকেটেড পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে। পুরনো যে অভিযোগ বা এফআইআর যেগুলো পড়ে আছে, সেগুলো কালেক্ট করা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি), এসসি কমিশন, এসটি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন, শিশু ও নারী অধিকার কমিশন, রাজ্য এবং কেন্দ্রের যত সুপারিশ এখনও পর্যন্ত পড়ে রয়েছে, সেগুলো কমিশন প্রাথমিক ভাবে নিয়ে নেবে।”

এই তথ্য সংগ্রহের জন্য দুই কমিশনের সদস্য সচিবেরা জেলায় জেলায় বিভিন্ন থানায় যাবেন। এলাকা ঘুরে ঘুরে তাঁরা বয়ান সংগ্রহ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কমিশনের কাজের জন্য জেলা থেকে কাউকে কলকাতায় আসতে হবে না। বিভিন্ন থানা স্তরে ঘুরে ঘুরে এই কাজ হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এদিন তিনি জানান, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে সন্দেশখালি থেকে কসবা কিংবা বগটুইতে একাধিক মহিলা ও শিশুর হেনস্তা হয়েছে। সেই ঘটনাগুলির তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করবেন আইপিএস দময়ন্তী সেন। আগামী পয়লা জুন থেকে এই কমিটি কাজ শুরু করবে। তার আগে নানা তথ্য সংগ্রহ কাজ করবেন আধিকারিক।বরাবরই মেধাবী পড়ুয়া দময়ন্তী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট তিনি। ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস দময়ন্তী সেন। তিনিই মহিলা হিসাবে প্রথম কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ক্রাইম হিসাবে কাজ করেন। পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পান। মাঝে পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্ত করেন। তাঁর দক্ষতায় খুব কম সময়ের মধ্যে তদন্তের কিনারা হয়। তবে তারপর ‘কোণঠাসা’ হয়ে যান। গত ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যে চারটি ধর্ষণ মামলার তদন্তে কমিটি গঠন করে। তাতে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় দময়ন্তীকে। রসিকা জৈন মৃত্যুরহস্যের তদন্তভারও দেওয়া হয়েছিল দুঁদে আধিকারিককে। ২০২৩ সালে তাঁকে কলকাতা পুলিশ থেকে রাজ্য পুলিশে বদলি করে দেওয়া হয়। এডিজি (প্রশিক্ষণ) পদে পাঠানো হয়। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের এডিজি আইজিপি পদমর্যাদায় কর্মরত। এবার সেই দময়ন্তীই খুলবে রাজ্যে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার জট।

You might also like!