
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:২০২৬ সালের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, আইসিএসই, আইএসসি, সিবিএসই (দশম ও দ্বাদশ) ও মাদ্রাসা পরীক্ষার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সম্মান জানাতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে কৃতীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন শমীক ভট্টাচার্য, যেখানে তিনি রাষ্ট্রবাদ ও বৈদিক ভারতের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের নিজের দেশ সম্পর্কে জানা উচিত। জাতীয়বাদের পাঠ দিতে গিয়ে ব্যকরণবিদ ও ভাষাতত্ত্ববিদ পাণিনি, কবি কালীদাস সহ বৈদিক যুগের একাধিক মহারথীর ইতিহাস মনে করিয়ে দেন তিনি। রাজ্যবাসীর বাঙালিদের তিনি মনে করিয়ে দেন, রাজ্যবাসীর বাঙালিরা প্রথমে ভারতীয়, তারপর তাঁরা বাঙালি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, এপিজে আবদুল কালাম-প্রসঙ্গ টেনে তিনি পড়ুয়াদের বোঝান, শিক্ষার কোনও বিকল্প নেই। পড়ুয়াদের বলেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই, সরকার সকলের পাশে আছে। সেই মঞ্চ থেকেই ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা বন্ধ নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই পড়ুয়াদের জন্য সুখবর শোনালেন তিনি। বলেন, “আজ থেকেই রাজ্যে চালু করা হচ্ছে বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ। ধর্ম নয়, মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা।” কীভাবে আবেদন করবেন? শুভেন্দু জানিয়েছেন, এই স্কলারশিপের জন্য যোগাযোগ করতে হবে শিক্ষাদপ্তরে। তবে এই প্রকল্পটি আগেও চালু ছিল। যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ধর্মের নামে বাড়তি সুবিধা আর নয়, রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে যে ভাতাগুলো দেওয়া হত সোমবার তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই বার্তাই দিয়েছে সরকার। বাংলায় বিজেপি সরকারের এখনও ১০ দিনও পেরোয়নি। ইতিমধ্যেই একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেশ কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজ্যে বন্ধ হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা। পূর্বতন তৃণমূল সরকার পড়ুয়া থেকে ধর্মগুরু, সকলের জন্যই ধর্মের ভিত্তিতে একাধিক প্রকল্প চালু করেছিল। আগামী মাস থেকে তা বন্ধ হতে চলেছে।
