
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ২৬/১১ মুম্বই হামলার সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় বাণিজ্যনগরীকে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর আরব সাগরের পথ দিয়েই পাকিস্তান থেকে মুম্বইয়ে পৌঁছেছিল আজমল কাসব ও তাঁর সঙ্গীরা। পরের কয়েকটা ঘণ্টা গোটা মুম্বই তছনছ করেছিল তারা। গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার কাছে তাজ হোটেল থেকে শুরু করে শহরের হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ, রেলস্টেশন, ধর্মীয় স্থান কিছুই বাদ দেয়নি। নৃশংস এক হত্যালীলা চলেছিল শহরজুড়ে। সেই স্মৃতি মনে করে ফের আতঙ্কে মুম্বই। গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার কাছে ঘুরঘুর করতে দেখা গেছে ভিনদেশি এক নৌকাকে। সেই নৌকাতেও কয়েকজন সওয়ারি ছিলেন। নৌকার গতিবিধি রহস্যজনক দেখেই এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ।
ওই তিন ব্যক্তি একটি মৎস্য সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু সেখানে কাজের পরিবেশ ছিল খুবই খারাপ। কিছু বলতে গেলেই জুটত মালিকের মারধর। তার উপর বেতন হত না নিয়মিত। ফলে অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন ভারত থেকে সেখানে কাজ করতে যাওয়া তিন মৎস্যজীবী। কর্মীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য মৎস্য সংস্থাটি সকলের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছিল। ছিল না টাকাপয়সাও। ফলে সাধ থাকলেও সাধ্য বিশেষ ছিল না তিন ব্যক্তির। অনেক ভেবে তাঁরা ঠিক করেন, মালিকের নৌকা নিয়েই পালাবেন দেশের দিকে। সেই অনুযায়ী, মালিকের খারাপ ব্যবহার থেকে নিস্তার পেতে কুয়েতের সংস্থা থেকে নৌকা চুরি করে তাঁরা ভেসে পড়েন পারস্য উপসাগরে, তার পর ভাসতে ভাসতে আরব সাগর। একটানা ১২ দিন আরব সাগরে ভেসে তাঁরা পৌঁছন মুম্বই উপকূলে। সেখানেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন, শেষ চার দিন কিছুই খাবার জোটেনি। কারণ পানীয় জল এবং রেশন শেষ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ তিন জনকেই আটক করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ মামলায় কোনও এফআইআর দায়ের করেনি পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কুয়েতের নৌকাটিকে পুলিশ কোলাবায় তাজ হোটেলের কাছে আটকে রেখেছে।
যদিও এই ঘটনায় বিপদঘন্টি শুনছেন অনেকেই। তাঁদের মনে পড়ে যাচ্ছে, মুম্বই উপকূলে ঢিলেঢালা নিরাপত্তার ফাঁক গলেই ২০০৮ সালে একই ভাবে নৌকায় ভেসে মুম্বই শহরে ঢুকে পড়েছিল কসাভের মতো জঙ্গি। এ বারও কি তেমন কিছুই হতে পারত? এমন নয় তো যে, ইতিমধ্যেই কুয়েতের নৌকা থেকে কয়েক জন নেমে মিশে গিয়েছেন বলিউডের শহরের জনারণ্যে? ঘরপোড়া মুম্বইবাসীর চিন্তা এখন সেটাই।
