
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার পুরোদিন উত্তর প্রদেশে কাটাবেন। সোমবারই শুরু হচ্ছে উত্তর প্রদেশ সরকারের শিল্প-বাণিজ্য সম্মেলন। রাজ্যের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এই সম্মেলনের নাম দিয়েছে ‘বাণিজ্যে বিনিয়োগের মহাকুম্ভ’। লখনউয়ের গোমতী নগরে ইন্দিরা গান্ধী প্রতিষ্ঠানে ওই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
উত্তর প্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আজ বিনিয়োগ মঞ্চ থেকে ১৪ হাজারের বেশি প্রকল্পের সূচনা করবেন। ওই সব প্রকল্পে প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। দেশে এর আগে এক দিনে এক মঞ্চ থেকে এত প্রকল্পের সূচনার নজির নেই।
প্রকল্পগুলির মধ্যে আছে ইলেকট্রনিক উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি ও করিডোর, বিমানবন্দরের পরিকাঠামো বৃদ্ধি এবং মেট্রো ও এক্সপ্রেসওয়ে। সব মিলিয়ে রাজ্যের সমস্ত ব্লকেই কোনও না কোনও প্রকল্প আছে যা প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে সূচনা বা উদ্বোধন হবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। তবে রাজ্য সরকারের মেগা ইভেন্টের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর সোমবারের সফরসূচিতে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে সাম্ভালে শ্রী কালকি ধাম টেম্পল করিডর প্রকল্পের সূচনা। শ্রী কাকলি ধাম নির্মাণ ট্রাস্ট এই মন্দির করিডর নির্মাণ করছে। যে সংস্থার চেয়ারপারসন হলেন সাধু আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণাম। উত্তর প্রদেশের এই সাধু ছিলেন কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের নেতা। রাম মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান দলের বয়কটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় দিন কয়েক আগে দল তাঁকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে। যদিও প্রমোদ কৃষ্ণাম বলেছেন, তিনি কংগ্রেসেই আছেন। দলকে শোধরাতে তিক্ত কথা বলে যাবেন।
তাৎপর্যপূর্ণ হল কংগ্রেসও তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি খাতায়কলমেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। কোনও নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং রাজ্যে বহমান ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা বিবেচনায় রেখেই এই কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রমোদ কৃষ্ণাম সরাসরি দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে আক্রমণ করে বসাতেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ব্যাখ্যা দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই সাধুর বক্তব্য, রাম মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কট করে কংগ্রেস নেতৃত্ব ঐতিহাসিক ভুল করেছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই প্রমোদ কৃষ্ণম দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে শ্রী কাকলি মন্দির করিডর উদ্বোধন করার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী সাগ্রহে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দিল্লি থেকে রওনা হয়ে একটু আগে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে সম্ভালে গিয়েছেন। সেখানে বিপুল সাধু সমাগম হয়েছে। তাঁদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা। সেখান থেকে আসবেন লখনউতে।
