
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও ‘দিল্লি চলো’ যাত্রার ডাক দিল কৃষকেরা। দেশ জুড়ে সকল কৃষককে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন সংযুক্ত কিসান মোর্চার নেতা সরবন সিংহ পান্ধের। ফসলের ন্যায্য দাম সহ একাধিক দাবিতে দিল্লি চলোর ডাক দেয় কৃষকরা। সেই আন্দোলন এখনও চলছে এবং আগামী রবিবার বড় কর্মসূচির ঘোষণা করা হল। ১০ মার্চ 'রেল রোকো'র ডাক দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি।
রবিবার কৃষক সংগঠনের দুই নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের এবং জগজিৎ সিং ধাল্লেওয়াল জানান, ১০ মার্চ দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত দেশজুড়ে 'রেল রোকো' কর্মসূচি করবেন তাঁরা। তার আগেই অবশ্য দিল্লির জন্য মিছিল শুরু হয়ে যাবে তাঁদের। পাঞ্জাব-হরিয়ানার অন্তত ২০০টি কৃষক সংগঠনের তরফে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। যদিও দিল্লি ঢোকার পথে আটকে দেওয়া হয় প্রতিবাদী কৃষকদের। ব্যারিকেড করে দেওয়া হয় সীমান্ত। এমনকি দিল্লিজুড়ে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলি নিজেদের দাবিতে অনড়।
কৃষক আন্দোলন ঠেকাতে প্রথম থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে হরিয়ানা প্রশাসন। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে কৃষকদের। এর জেরে এক তরুণ কৃষক এবং এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়। কিন্তু কৃষকদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের দাবি না মানা অবধি তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সেই আন্দোলনকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই 'রেল রোকো'র ডাক।
১০ মার্চ নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। ওই দিনটি রাজ্য এবং দেশীয় স্তরে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, একই দিনে বাংলায় রয়েছে তৃণমূলের বিগ্রেড। অন্যদিকে, ওই দিনই আবার সন্দেশখালিতে বিজেপির সভা হওয়ার কথা। এছাড়া অন্যান্য বিরোধী দলগুলির কর্মসূচি তো আছেই। আগামী রবিবার কলকাতা সহ রাজ্যে এমনিতেই যানজটের সমস্যা হওয়ার কথা। এবার কৃষকদের ডাকে এই 'রেল রোকো'র প্রভাব যদি বাংলাতেও পড়ে তাহলে পরিস্থিতি কেমন হয়, সেটাই দেখার বিষয় হবে। তবে দিনটি যেহেতু রবিবার তাই অনেকের অনুমান, সাধারণ মানুষ খুব একটা নাজেহাল হবেন না।
আগামী ১০ মার্চ সকাল ১১ টা থেকে হবে বিগ্রেড সমাবেশ। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা সহ একাধিক বিষয়ে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই সমাবেশ থেকে প্রতিবাদ জানানো হবে। যার নাম দেওয়া হয়েছে 'জনগর্জন সভা'। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও কৃষকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বার্তাও দিয়েছেন। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেও তিনি কৃষক আন্দোলন নিয়ে সরব হতে পারেন বলে অনেকের অনুমান। সব মিলিয়ে ১০ মার্চ দিনটি লোকসভা নির্বাচনের আগে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
