
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবাদের আড়ালে ‘দেশবিরোধী’ শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে, সক্রিয় হয়ে উঠছে ভারতবিদ্বেষীরা। এমনই অভিযোগ তুলে বারবার সরব হয়েছেন রাজ্যের শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা। এবার দুর্গাপুজোর আবহে সেই শক্তিগুলির বিনাশ কামনা করে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অসুরদলনকারী দেবীর কাছে তাঁর আর্জি, দেশের বিরোধিতা করে যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত, তাদের যেন বিনাশ হয়। অগ্নিমিত্রার কথায়, “ভারতবিরোধী শক্তিগুলিকে শেষ করে দাও মা। যারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া এতদিন কিছুই ভাবেনি, সেই বদমাইশদেরও শেষ করে দাও।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে প্রাক-পুজোর উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গোটা দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে ভারত। কিন্তু দেশের এই পথে যারা বাধা দিতে চাইছে, তাদের শেষ করে দাও মা তুমি। যারা নিজেদের স্বার্থের বাইরে কিছুই ভাবেনি, মা দুর্গা যেন তাদের শেষ করে দেন। দেশ ও রাজ্যজুড়ে এই ধরনের শক্তির বিনাশ হোক, এটাই আমার প্রার্থনা।” এদিন সিটি সেন্টারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আতসবাজি প্রদর্শন উপভোগ করেন।
এদিন রাজ্যবাসীকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছাও জানান অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে সতর্ক থাকার আবেদন জানান তিনি। জানান, পুজোর সময় জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে। পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরাও রাস্তায় থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। তবে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে সরকারের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার বার্তাও দেন তিনি।
অগ্নিমিত্রার আরও বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির বিরোধিতা করবে এমন প্রচার যে ঠিক নয়, মহালয়ায় ইডেনের অনুষ্ঠানে মানুষের বিপুল জনসমাগমই তার প্রমাণ। আগামী দিনে আরও অনেক উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে মানুষের পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে অগ্নিমিত্রার বার্তা, ‘‘আগামী দিনেও পাশে থাকুন, আরও অনেক কিছু হবে।” সোমবারের ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পুন্নাবলাম এস, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই।
