
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শওকতকে ছাড়তে নারাজ ক্যানিং পূর্ব! মঙ্গলবার রাত থেকে জীবনতলার বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুগামীদের দাবি একটাই— শওকত মোল্লাকে ভাঙড়ে নয়, লড়তে হবে নিজেদের গড় ক্যানিং পূর্ব থেকেই। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ এবং শ্লোগানে উত্তাল জীবনতলা এলাকা। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ভাঙড় একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা, সেখানে শওকতকে পাঠিয়ে ক্যানিং পূর্বকে অভিভাবকহীন করতে চাইছে না দল। শওকত মোল্লা নিজেও এই বিক্ষোভের খবরে বিচলিত। তিনি কর্মীদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানালেও বিক্ষোভ থামার লক্ষণ নেই।
গতকাল, মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে। একাধিক জেলায় প্রার্থী বদল হয়েছে। বিধায়কদের অনেকে টিকিট পাননি। এবার ৭৪ জন মুখ বদল হয়েছে শাসক দলের প্রার্থী তালিকায়। ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকার দীর্ঘদিনের বিধায়ক শওকত মোল্লা। ওই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবেও তিনি পরিচিত। এদিকে দল তাঁকে বেশ কিছুদিন ধরে ভাঙড়ের দায়িত্বও দিয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে ভাঙড়েও তাঁর প্রভাব রয়েছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়, ক্যানিং পূর্ব নয়, এবার শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করা হয়েছে ভাঙড় থেকে। আর তারপরই ক্যানিং এলাকায় ক্ষোভ ছড়াতে থাকে।
মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাতেই জীবনতলায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী করা হয়েছে ভাঙড়ের নেতা তথা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলামকে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন স্থানীয় যুব তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ক্যানিং পূর্বে ‘ঘরের ছেলে’ সওকত মোল্লাকেই প্রার্থী করতে হবে। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বহিরাগত প্রার্থী তাঁরা কোনওভাবেই মেনে নেবেন না। তৃণমূলের কয়েকশো কর্মী-সমর্থক জীবনতলা বাজারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ।
এদিন সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সওকতকে ওই এলাকাতেই প্রার্থী করতে হবে স্লোগানিং চলে। ২০১৬ ও ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন শওকত মোল্লা। এবারও তাঁকে এখানেই প্রার্থী করার তীব্র দাবি উঠেছে। ক্যানিং ২ ব্লকের সারেঙ্গাবাদ অঞ্চলের প্রধান ইছাউদ্দিন সর্দার বলেন, “আমরা ঘরের ছেলেকেই চাই, বহিরাগত মানছি না।” শওকত মোল্লা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে কিছু বলার নেই। দল তাঁকে যে নির্দেশ দেবে, তাই পালন করা হবে। অনুগামীদের একাংশ এই বিক্ষোভ করছেন। অন্যদিকে, প্রার্থী বাহারুল ইসলাম বলেন, “দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। শওকতদার সঙ্গে কোনও মতবিরোধ নেই।”
