
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত বিতর্কিত অডিও কাণ্ডে বুধবার ফের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে তলব করল বহরমপুর থানার পুলিশ। এর আগে সোমবার নির্ধারিত সময়ের আগেই থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন নওদার বিধায়ক। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানা থেকে বেরিয়ে হুমায়ুন জানান, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ফের তাঁকে হাজিরার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। হুমায়ুন কবীর বলেন, “আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আসার জন্য আবার একটা নোটিস দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কথা মতো আবার আসব।” পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, আগের তুলনায় এবার প্রশ্নের সংখ্যা কম ছিল। তাঁর কথায়, “আগের জিজ্ঞাসাবাদের মতো প্রশ্নমালা হয় না। এবার প্রশ্ন অনেক কম। আমি যথাসম্ভব উত্তর দিয়েছি।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হুমায়ুন আরও বলেন, “প্রশ্নের উত্তর দিতে জানলেই সব সহজ, না জানলেই কঠিন হয়ে পড়ে।” পাশাপাশি রেজিনগর থানায় যাওয়ার আগের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সেখানে অভিযোগ জানাতে যাওয়ার সময় গোবর ছড়িয়ে তাঁদের পথ আটকানো হয়েছিল। হুমায়ুনের দাবি, পরের দিন তাঁকে থানায় ঢুকতে দেওয়া হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা দলীয় কর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
জানা গিয়েছিল, নির্বাচনের সময় একটি অডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে মুর্শিদাবাদে নির্মীয়মান বাবরি মসজিদে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানোর কথা বলা হয়েছিল। দুই ব্যক্তির মধ্যে ওই কথোপকথন হয়েছিল। যদিও সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা বিচার করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। ওই কল রেকর্ডিংয়ের অন্যপ্রান্তে হুমায়ুন কবীর ছিলেন বলে অভিযোগ। দিন কয়েক আগে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক ব্যক্তি কথা বলে হিংসা ছড়ানো ওই পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ। অডিও ক্লিপের তদন্তে নেমে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। সেই মামলাতেই সোমবার থানায় হাজিরা দেন হুমায়ুন। অন্যদিকে, রবিবারই উপনির্বাচনের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ন কবীর। একে একে দলের কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে সোমবার নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন নওদার বিধায়ক।
রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেছিলেন, “মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা পুলিশের ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোট করাতে চাইছে। আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাঁদের। ভোটের দিন এর মোকাবিলা হবে। তাই এর প্রতিবাদে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভোটের আগে বিজেপির কথায় পুলিশ আমাদের কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে।” এই মর্মেই নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে বিস্তারিত নালিশ জানান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বহরমপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রচার বন্ধ করতে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তাঁর প্রত্যক্ষ নির্দেশেই বিভিন্ন থানার আইসি ও ওসি-রা আমাদের রাজ্য ও ব্লক স্তরের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জেলবন্দি করছেন।’
কর্মীদের গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন লেখেন, ‘বেলডাঙা-১ ব্লক সভাপতি মুনাইম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের রাজ্য কমিটির সম্পাদক সুখবর মোল্লাকে রাত ১২টার সময় তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাল নোট ও আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে তাঁকে।’ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম মণ্ডলকে গ্রেপ্তারি সহ একাধিক কর্মীদের ‘ইচ্ছাকৃত’ গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে নালিশ হুমায়ুনের। চিঠিতে বহরমপুর পুলিশ সুপার, বহরমপুর পুলিশ জেলা, আইসি, বেলডাঙা থানার ও রেজিনগর থানার ওসির অপসারণের দাবি তোলেন নওদার বিধায়ক।
