
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটগণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডে একদিকে যখন গেরুয়া শিবিরের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত, তখনই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে দেখা গেল টানটান নাটকীয়তা। কিছু গণনাকেন্দ্রে ইতিমধ্যেই ভিড় কমতে শুরু করেছে All India Trinamool Congress-এর নেতা-কর্মীদের।এই পরিস্থিতিতে ভোটগণনা কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছেন বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী। হেস্টিংসের গণনাকেন্দ্রের সামনে পৌঁছে দলীয় নেতা-কর্মীদের ‘ভোকাল টনিক’ দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনই ভোটগণনা কেন্দ্র ছেড়ে না বেরিয়ে আরও অপেক্ষা করার বার্তা দিলেন তিনি।
সোমবার গণনার শুরুতে পোস্টাল ব্যালটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল তৃণমূল ও বিজেপির। বেলা বাড়তেই ইভিএম গণনা শুরু হয়। উত্তরবঙ্গে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় তৃণমূল। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও মুখ থুবড়ে পড়ে ঘাসফুল শিবির। এদিকে, একাধিক ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে স্লো কাউন্টিংয়ের অভিযোগ উঠতে থাকে। খবর পাওয়ামাত্রই সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হেস্টিংসের ভোটগণনা কেন্দ্রে পৌঁছন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগান দেওয়া হয়। তা শুনেও মেজাজ হারাননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, “এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। বাংলার মানুষ দেখুন। যারা বলেছিল উলটো করে ঝুলিয়ে দেব। তাদের সংস্কৃতি দেখছে বাংলার মানুষ।” দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের ‘ভোকাল টনিক’, “কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরবেন না। আগে মানুষের রায় গণনা শেষ হোক। দরকার হলে আরও অপেক্ষা করতে হবে।” তাঁর দাবি, “বর্ধমান দক্ষিণে তৃণমূল জিতে গিয়েছে। অথচ জয়ী বলছে না। আবার সেখানে গণনা হচ্ছে।” এদিকে, প্রার্থী না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে হয় তাঁকে। এর আগে বাড়ি থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে একই কথা বলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ও কমিশনকে খোঁচা দেন তিনি। পরাজয়ের পরিস্থিতি তৈরি হলেও মনখারাপ না করার কথা বলেন তিনি। সূর্যাস্তের পর পরিস্থিতি বদল হবে বলেই বিশ্বাস তাঁর। ততক্ষণ পর্যন্ত মন শক্ত রেখে ‘বাঘের বাচ্চা’র মতো লড়াই করার বার্তা দেন মমতা।
