
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভ্রু প্লাক করতে গিয়ে বা সাজগোজের সময় অনেকেরই মনে হয়— “ইস, যদি একটু ভরাট হত ভ্রু দু’টো!” পাতলা ভ্রু নিয়ে অনেকে হীনমন্যতা অনুভব করেন। মেকআপে যতই কৌশল প্রয়োগ করা হোক না কেন, স্বাভাবিক ঘন ভ্রুর তুলনা হয় না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য যত্নে ঘরে বসেই পাল্টে ফেলা যায় ভ্রুর অবস্থা। নিয়মিত তেল মালিশ ভ্রুর রোম গজাতে সহায়ক হতে পারে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকমতো ও নিয়মিত তেল মাখলে ভ্রুর রোমকূপে পুষ্টি পৌঁছয়, ওই অংশে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ভাঙন বা ঝরে পড়ার প্রবণতা কমে যায়। এতে স্বাভাবিক ভাবে নতুন রোম গজানোর সম্ভাবনা বাড়ে।
কোন তেল কতটা কার্যকর?
ক্যাস্টর অয়েল— ক্যাস্টর অয়েল ভ্রুর রোমকে ঘন করে, গোড়া শক্ত করে এবং ভাঙন ধরার প্রবণতা কমায়। নিয়মিত মাখলে ভ্রু আরও ভরাট হয়। রাতে ভ্রু জল দিয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। একটি পরিষ্কার তুলো বা বাড নিয়ে সামান্য ক্যাস্টর অয়েল লাগিয়ে নিন। আলতো করে গোল করে মালিশ করুন এবং সারা রাত রেখে দিন, যাতে তেল পুরোপুরি শোষিত হয়।
নারকেল তেল— নারকেল তেল ভ্রুর চুলের ভিতরে গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। প্রোটিনের ক্ষয় রোধ করে রুক্ষতা কমায়। ভ্রুর চারপাশে খুশকি থাকলে তা-ও কমে যায়। আঙুলে একফোঁটা তেল নিয়ে ভ্রুয়ে আলতো করে লাগিয়ে নিন এবং গোল করে মালিশ করুন। রাতে লাগালে বেশি ফল মিলবে। চাইলে সকালে জল দিয়ে ধুয়ে নেওয়া যায়।
আমন্ড অয়েল— আমন্ড অয়েলে থাকে ভিটামিন এ, বি এবং ই, যা চুলের গোড়াকে ভিতর থেকে পুষ্ট করে। এতে ভ্রুর রোম ঝরে পড়া কমে, ঘনত্ব বাড়ে এবং ফাঁকা জায়গায় নতুন রোম জন্মায়। প্রতি দিন ভ্রুতে সামান্য আমন্ড অয়েল লাগিয়ে দু’মিনিট মালিশ করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিবর্তন নজরে আসবে।
ইচ্ছে হলে ক্যাস্টর, নারকেল ও আমন্ড, তিন তেলই অল্প অল্প করে নিয়ে একটি মিশ্রণ বানাতে পারেন। এতে পুষ্টি আরও বাড়বে এবং ফল দ্রুত দেখা যাবে।
কী ভাবে তেল মাখলে সবচেয়ে ভাল ফল মিলবে?
ভ্রু থেকে মেকআপ ও ময়লা পরিষ্কার করে ফেলুন। এ বার তুলো বা আঙুল ব্যবহার করে অল্প তেল মেখে নিন। হাতের আলতো চাপে গোল করে মালিশ করতে থাকুন, এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে। ভারী তেল হলে খানিক ক্ষণ রেখে তুলে ফেলুন। হালকা তেল রাতভর রেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত যত্ন নিলে স্বাভাবিক ভাবেই ভ্রু হবে ঘন, মজবুত ও ভরাট।
নিয়মিত রূপচর্চার এই অভ্য়াস মেনে চললে ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যেই অল্পবিস্তর পরিবর্তন নজরে আসতে পারে। তবে সবচেয়ে ভাল ফল পেতে ২-৩ মাস ধৈর্য ধরতে হবে। রোম গজানোর ধরন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন, তার উপরও এই সময়টি খানিক নির্ভর করে।
