
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ! তেহরানে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মাঝেই কুয়েতের আকাশে বিপর্যয়ের মুখে পড়ল মার্কিন বিমানবাহিনীর গর্ব ‘এফ-১৫’ যুদ্ধবিমান। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ইরানের প্রত্যাঘাত বা যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে বিমানটি কুয়েতের মাটিতে আছড়ে পড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। যদিও বড়সড় প্রাণহানি এড়িয়ে পাইলট শেষ মুহূর্তে প্যারাসুট নিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসলীলার ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল) ঘিরে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগের পারদ।
আমেরিকার যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মাঝ আকাশে বিস্ফোরণ ঘটেছে ওই মার্কিন যুদ্ধবিমানে। এরপর আকাশে প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে চক্কর খেতে খেতে মাটিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এই সময়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন পাইলট। দুর্ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও পক্ষই এখনও পর্যন্ত বিবৃতি জারি করেনি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অথবা ড্রোন হামলার জেরেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানটি। অন্যদিকে আর একটি পক্ষের দাবি, ভুলবশত নিজেদের বিমানেই হামলা চালিয়েছে মিত্রপক্ষ যার জেরে এই দুর্ঘটনা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। পালটা জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালায় ইরান সেনা। কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। সেইমতো রবিবার হামলা চলে আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী আক্রাহাম লিঙ্কনের উপর।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে-বাতাসে এখন যুদ্ধের দামামা। ইরান রিভলিউশনারি গার্ডের (IRGC) দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবহরের গর্ব 'আব্রাহাম লিঙ্কন' এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। তেহরানের এই দুঃসাহসিক দাবি কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ওয়াশিংটনকে এক চরম হুঁশিয়ারি। 'মাটি, সমুদ্র এবং আকাশে হামলাকারীদের কবর খোঁড়া হবে'—ইরানি বাহিনীর এই হুঙ্কার এবং তার পরপরই কুয়েতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পতন সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। পেন্টাগন এখনও মৌনব্রত পালন করলেও, এই নীরবতা কি ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা? বিশ্ব কূটনীতি এখন এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে।
A US F-15 fighter jet crashes in Kuwait; possibly shot down.
— Press TV 🔻 (@PressTV) March 2, 2026
Follow https://t.co/B3zXG73Jym pic.twitter.com/p2ItA2NvWR
