
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতেই এখন ফ্রিজ একটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। কিন্তু ফ্রিজ যত বড়ই হোক, অনেকেই অভিযোগ করেন—ভিতরে নাকি ঠিকমতো জায়গা পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ ফ্রিজে জিনিসপত্র সঠিকভাবে না রাখা।
ফ্রিজের ভেতরের প্রতিটি অংশের আলাদা আলাদা কাজ রয়েছে। তাই কোন জিনিস কোথায় রাখা উচিত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। আজকের প্রতিবেদনে রইল, কোন জিনিসগুলি ডোরে আর কোন সামগ্রী ভিতরে তাকে রাখবেন, সেই টিপস।
* ফ্রিজের ডোরের তাকে রাখতে পারেন কেচআপ, কাসুন্দি, মেয়োনিজ এবং স্য়ালাড ড্রেসিংয়ের সামগ্রী। এই সামগ্রীগুলিতে থাকে ভিনিগার, নুন এবং চিনি। তাই একইরকম তাপমাত্রায় রাখা দরকার। দ্বিতীয়ত ডোরে রাখলে এই জিনিসগুলি পড়ে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় থাকে না। তাই দরজায় রাখাই ভালো।
* যেকোনও ধরনের জুস অবশ্যই ফ্রিজের দরজায় রাখুন। রাসায়নিকে ভরপুর এই জুস থাকে ব্যাকটেরিয়ানাশক। তার ফলে তাপমাত্রা বদলালে সমস্যা হতে পারে। তাই একেবারে শুরু থেকেই ফ্রিজের ডোরে রাখুন জুস।
* অনেকেই ফ্রিজে সফট ড্রিংকস রাখেন। ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফেরার পর যাতে সহজেই তা হাতের কাছে পাওয়া যায়, তাই সফট ড্রিংকস অবশ্যই ফ্রিজের ডোরে রাখুন।
* ফ্রিজে আচার কিংবা চাটনি কিনে রাখেন কেউ কেউ। শেষপাতে খান। এই ধরনের খাদ্যসামগ্রী অবশ্যই ফ্রিজের ডোরে রাখুন। তাতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
* জ্য়াম এবং জেলি প্রায় প্রত্যেকের ফ্রিজেই থাকে। পাউরুটিতে মাখিয়ে খান অনেকেই। চিনি এবং রাসায়নিকে ভরপুর জ্যাম এবং জেলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একইরকম তাপমাত্রায় রাখুন ফ্রিজের ডোরে।
* মাখনও প্রত্যেক গৃহস্থ বাড়িতে কিনে রাখেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মাখন খারাপ হয়ে যায়। ভালো রাখতে চাইলে অবশ্যই ফ্রিজের ডোরে রাখুন। বারবার ফ্রিজ থেকে বের করে ব্যবহার করবেন না।

∆ জেনে নিন ফ্রিজের ডোরে কী কী ভুলেও রাখবেন না:
* দুধ, মাংস ভুলেও ফ্রিজের ডোরে রাখবেন না। তাতে কম তাপমাত্রার ফলে খারাপ হয়ে যেতে পারে। আবার দরজা খোলামাত্রই পড়ে গিয়েও নষ্ট হতে পারে খাবার।
ফ্রিজে অযথা বেশি জিনিস না ভরে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে রাখা উচিত। নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার রাখা এবং পুরনো খাবার ফেলে দেওয়াও জরুরি। সামান্য সচেতনতা আর সঠিক ব্যবস্থাপনাতেই ফ্রিজের জায়গা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব, আর খাবারও থাকবে টাটকা ও নিরাপদ।
