
কলকাতা, ১৩ অক্টোবর : রাজারহাটের তৃণমূল নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশ্যে ক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপান উতোর। তৃণমূলের অন্দরের অশান্তি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা।
বিজয়া সম্মিলনীতে ডাক না পেয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পরই সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তাপসবাবু। তৃণমূলের টিকিটেই পরপর দু’বার বিধায়ক হয়েছেন তিনি। এহেন বর্ষীয়ান নেতার অভিমানী মন্তব্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তাপসবাবুর কটাক্ষ, “দলে এখন দু’টো শ্রেণি-বাবু ও চাকর। আমি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমি ভাল গাইতে পারি না, ভাল নাচতে পারি না তাই হয়তো ডাক পাই না। যারা একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীকে কটূ কথা বলেছেন, তাঁরা এখন ডাক পান।” নাম না করে বিজেপি থেকে ঘরে ফেরা সব্যসাচী দত্তকেই তিনি নিশানা করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ প্রসঙ্গে তাপসবাবুর পুরনো সতীর্থ তথা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, এসব ওদের দলের ব্যাপার। কী বলব। বিজয়া সম্মিলনীটা কীসের সেটাই বুঝলাম না। তৃণমূল দলটার বিজয়া হচ্ছে, তারই কি সম্মিলনী?
কটাক্ষ করেছেন বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। বলেন, এটা ওদের দলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন। তৃণমূল ছেড়ে ওদের এক নেতা সব্যসাচী দত্ত আমাদের দলে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি তো বলেছিলেন, তাঁর দল ছাড়ার অন্যতম কারণ তাপস চট্টোপাধ্যায়। এখন সেই সব্যসাচী মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ। স্বাভাবিকভাবেই তাপসবাবুর খারাপ লাগছে।” দলীয় বিধায়কের প্রকাশ্য মন্তব্য অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “তাপসদা মন দিয়ে তৃণমূল করছেন। দক্ষ সংগঠক। আমি এনিয়ে কথা বলব।”
