SLST Recruitment : এসএলএসটি-র শূন্যপদে নিয়োগে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াল হাই কোর্ট

SLST Recruitment
SLST Recruitment

 

কলকাতা, ১৮ নভেম্বর  : আরও জটে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা পদে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া। অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।

২০১৬ সালে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নেওয়া পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগের তোড়জোড় করে কমিশন। অতিরিক্ত ৭৫০ শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু এক চাকরিপ্রার্থীর মামলার ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহেই স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন হাই কোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। দু’দিনের জন্য সেই স্থগিতাদেশ ছিল।

শুক্রবার সেই মামলা ফের আদালতে উঠলে বিচারপতির প্রশ্নের মুখে পিছু হঠে স্কুল সার্ভিস কমিশন। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ করা হোক অতিরিক্ত শূন্যপদে, এই আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কর্মশিক্ষা এবং শারীরশিক্ষার জন্য যাঁরা ইতিমধ্যে সুপারিশপত্র পেয়ে গিয়েছেন, তাঁদেরও নিয়োগপত্র দিতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে নিষেধ করে হাই কোর্ট। পাশাপাশি শূন্যপদ নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আগামী ২৮ নভেম্বরের মধ্যে এই হলফনামা জমা দিতে হবে। ৩০ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি।

এ বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে লিখিত নির্দেশিকা এসেছে বলে আদালতে জানালেন কমিশনের আইনজীবী। সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা নতুন চারটি হলফনামায় কমিশনের আবেদন ছিল যে রাজ্যের তৈরি করা শূন্যপদে যেন চাকরি বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিশনের এই অবস্থানের উলটোপথে হেঁটে রাজ্য জানায়, তারা এই অবস্থানের বিপক্ষে, অযোগ্যদের নিয়োগের পক্ষে তারা নয়।

মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য শুক্রবার আদালতে দাবি করেন, অতিরিক্ত শূন্য পদ তৈরি করার অধিকার রাজ্যের নেই। অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় পাল্টা সওয়াল করেন, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজ্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করতে পারে। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি বসু বলেন, ‘‘আপনাদের যা ইচ্ছা করুন, আমি শুধু ছাত্রদের শিক্ষা নিয়ে চিন্তিত।’’ তখনই বাম আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ। বলেন, ‘‘বিভিন্ন রাজনৈতিক জমানাতে শিক্ষার অবক্ষয় হয়েছে। একটা সরকার ইংরেজি বন্ধ করে দিয়েছিল, এটা খুব বড় ভুল ছিল।’’ এই বিষয়ে সহমত পোষণ করে বিচারপতি বলেন, ‘‘হ্যাঁ, এটা বড় ভুল।’’

শুনানিতে বিচারপতি কমিশনকে প্রশ্ন করেন, ‘‘সবাইকে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে?’’ জবাবে কমিশন জানায়, কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার ক্ষেত্রে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে। কর্মশিক্ষায় ৫৮৫ শূন্যপদের মধ্যে ৫১৪ জনকে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে এবং শারীরশিক্ষায় ৮২৪ শূন্যপদের মধ্যে ৭৬৬ জনকে সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ নিয়োগপত্র দিয়েছে কি না, প্রশ্ন করেন বিচারপতি। জবাবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আইনজীবী বলেন, ‘‘না, আপনি মৌখিক নির্দেশে নিয়োগপত্র দিতে বারণ করেছিলেন, তাই পর্ষদ কোনও নিয়োগপত্র দেয়নি।’’


শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…