
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আইডিবিআই ব্যাঙ্কের সিংহভাগ শেয়ার কানাডার সংস্থা ‘ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংস’-এর হাতে তুলে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দেশবাসীর করের টাকায় গড়ে ওঠা একটি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এই বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে আন্দোলনরত আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, “কংগ্রেস ব্যাঙ্ক তৈরি করেছিল, আর বিজেপি সেগুলি বিক্রি করছে।” কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
ব্যাঙ্কের কর্মচারীদের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে রাহুল গান্ধী এই বেসরকারিকরণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কর্মী, আমানতকারী এবং সংবিধানে উল্লেখিত সংরক্ষণ নীতির ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের শেয়ার মূল্যায়নের সময় এবং পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়ে একাধিক অনিয়মের প্রশ্ন ওঠার আবহেই রাহুলের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ নতুন মাত্রা যোগ করল। চিঠিতে রাহুল উল্লেখ করেন, গত বছরের মার্চ মাসে সংসদ ভবনে ব্যাঙ্কের কর্মচারীদের একটি দল তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেদিন কর্মচারীরা জানতে চেয়েছিলেন, যে ব্যাঙ্ককে তাঁরা কষ্ট করে লাভজনক সংস্থায় পরিণত করেছেন, সেটিকে কেন সরকার বিক্রি করে দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গ তুলে রাহুল লেখেন, "আমি এই প্রশ্নটি লোকসভায় তুলেছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম কেন একটি লাভজনক সরকারি ব্যাঙ্ককে বিক্রি করা হচ্ছে এবং কীভাবে কর্মী ও আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। কিন্তু সরকার কোনও স্পষ্ট যুক্তি দেখায়নি। এখন তারা আইডিবিআই ব্যাঙ্ককে একটি কানাডীয় সংস্থার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
২০০৩ সালে সংসদে দেওয়া সরকারের একটি পুরনো প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস নেতা জানান, সেই সময় সংসদে সরকার আশ্বাস দিয়েছিল যে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে সর্বদা ন্যূনতম ৫১ শতাংশ মালিকানা নিজেদের হাতেই রাখবে। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি নৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল বলে জানান তিনি।
বেসরকারিকরণের ফলে তফশিলি জাতি , তফশিলি উপজাতি এবং অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য নির্ধারিত সরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেছেন রাহুল। তিনি লেখেন, "আইডিবিআই ব্যাঙ্ক ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয়ে গেলে অনগ্রসর শ্রেণীর সংরক্ষণ উঠে যাবে। কর্মীদের চাকরির শর্তাবলী ও সুরক্ষা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।" কংগ্রেস যে শক্তিশালী সরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগের সহাবস্থানে বিশ্বাসী তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকারি ব্যাঙ্কগুলি জাতীয় সম্পদ তৈরির স্তম্ভ, বিক্রির জন্য কোনও পদের সামগ্রী নয়। ব্যাঙ্ক কর্মচারী সংগঠনগুলির আন্দোলন ও সমস্ত ন্যায়সঙ্গত দাবির পাশে কংগ্রেস রয়েছে বলে আশ্বাস দেন রাহুল গান্ধী।
