
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে বিজেপি। বুধবার বিধানসভায় শপথ গ্রহণ করেন দলের দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক শাখরভ সরকার (রেজিনগর) ও হাসিরানি রথ (নন্দীগ্রাম)। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে না দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।
শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামের জনগণকে ধন্যবাদ। তাঁরা অভিমান করে বলেছিল আমায়, যাতে ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে দিই (বিধানসভা ভোটে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্রে জিতেছেন)। আমি বলেছি, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন, তিনি আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন। এই বয়সে আর না দাঁড়ানোই ভালো ওঁর। ৭৫ প্রায় বয়স। এখন বিশ্রাম নেওয়ার কথা।” সম্প্রতি, পুরভোটের প্রস্তুতির জন্য হলদিয়ায় গিয়েও মমতাকে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছিলেন, “তিরিশটি আসনেই একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠাতে হবে খালি হাতে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে আমাদের। যাতে আর ক্ষতি না করতে পারে…।” এবার একেবারে ভোটে না দাঁড়ানোরই পরামর্শ দিলেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগে কার্যত আড়ালেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথগ্রহণ সরাসরি দেখতে চান। ফলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেখানে ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জিতেছেন দেবাংশু পাণ্ডা। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফল নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সেখানে এক প্রার্থী কার্যত লড়াইয়ের ময়দান থেকে ছিটকে গিয়েছেন, অন্য এক প্রার্থী ৬ হাজার ভোটেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। নির্বাচনের সময় টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমে যে ধরনের ঘটনা দেখা যেত, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। প্রচারে গিয়ে একটি ছোট্ট মেয়ে জসমিনার মৃত্যুর ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনের পরে তার পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে যে অভিযোগ করা হত, রেজিনগরের নির্বাচনী ফল সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, ৭০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে জানান শুভেন্দু।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, তাঁরা হিন্দু এবং কপালে তিলক পরেন। তবে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংখ্যালঘু বুথেও বিজেপির জয় হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সরকারের গত ছ’মাসের কাজকে সকালের চা-বিস্কুটের সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দুর মন্তব্য, এখনও মূল কাজ শুরুই হয়নি। আগামী দিনে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি। এদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মতো করে লড়াই করুন। এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হলে মামলাটি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে এ ধরনের ঘটনা না ঘটাই কাম্য বলেও মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, হাসি রানির ছেলেকে নৃশংসভাবে খুনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে খুনের জন্য ২ কোটি টাকা সুপারি কে দিয়েছিল এবং সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছিল, তা এখনও জানা বাকি। এই ঘটনার নেপথ্যে কালীঘাট না ক্যামাক স্ট্রিটের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
