
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার কথা ঘোষণা করলেন আরও এক তৃণমূল বিধায়ক। চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে আর থাকতে চান না তিনি। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আস্থা রেখে তাঁর সঙ্গেই থাকবেন বলে ঘোষণা করেছেন হামিদুল। এর আগে তৃণমূল বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকীও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত শিবির ছেড়ে মমতা শিবিরে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। একইভাবে ঋতব্রতপন্থী শিবিরের আর এক বিধায়ক রথীন ঘোষও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেত্রী হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল চোপড়ার বিধায়কের নাম। ফলে তৃণমূলের অন্দরে শিবির বদলের জল্পনা আরও জোরালো হল।
রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকে সৃষ্টি হওয়া জল্পনা ও বিভ্রান্তি এদিন দলীয় কর্মসূচিতে দূর করেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান। মঙ্গলবার চোপড়া আইটিআই কলেজ মাঠে চুটিয়াখোর পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতৃত্ব-সহ দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শারীরিক অসুস্থতা-সহ বিভিন্ন কারণে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে খানিকটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বিধায়কের। এর ফলে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নানা দ্বিধা ও বিভ্রান্তি দানা বাঁধে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, মমতা শিবির ছেড়ে হামিদুল রহমান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এদিনের দলীয় বৈঠকের মাধ্যমে সমস্ত বিভ্রান্তি, সংশয় এক ঝটকায় খারিজ করে দেন বিধায়ক।
বিধায়ক হামিদুল রহমান স্পষ্ট বলেন, “চিরকালই আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। তৃণমূলের প্রতীকেই নির্বাচিত হয়েছি। মমতাকেই দলনেত্রী মনে করে চলেছি। উনিই দলের হাইকমান্ড।” সেইসঙ্গে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থনের প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, “শুধুমাত্র পরিষদীয় স্বার্থ ও বিরোধীদের অফিস ঘর সংক্রান্ত বিষয়ে সহমত পোষণ করে সই করেছি। তবে ঋতব্রতবাবু পৃথক রাজনৈতিক দল বা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেবেন—এমন কোনও স্পষ্টতা তখন ছিল না।” পরে তিনি জানতে পারেন, পৃথল দল করে গত দুই উপনির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। দলের প্রতীকের জন্য সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছে। এসব নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা না বলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান হামিদুল।
এদিনের বৈঠক থেকে চোপড়ার চুটিয়াখোর পঞ্চায়েত ও বুথ স্তরের কর্মীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন, তাই বিরোধী শিবিরের যেকোনও বিভ্রান্তিকর প্রচার প্রতিহত করে দলকে প্রতিটি বুথে শক্তিশালী করার ডাক দেন তিনি। দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে তিনি বদ্ধপরিকর বলে জানান।
