
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল। মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। তবে নির্বাচনী বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই কড়া পদক্ষেপ করল ট্রাম্প প্রশাসন। ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক একদিন পরই ভারত ও তুরস্কের একাধিক সংস্থা এবং ব্যক্তির উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, গোপনে আমেরিকার শত্রু ইরানকে সাহায্য করার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটল ট্রাম্প সরকার।
মার্কিন সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান তেল বাণিজ্যের মাধ্যমে মুনাফা কামিয়ে তা আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছিল। তাই তেহরানের তৈল বাণিজ্য ধ্বংস করতেই দেশটির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করেছিল আমেরিকা। ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা, যারা ইরান সরকারকে সমর্থন করবে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আমেরিকার নয়া নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক সুনীল কুমার শর্মা ও তাঁর স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শাহিদ। পাশাপাশি, ওই দম্পতির সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আরও দুই ভারতীয়কেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সুনীলের সঙ্গে যুক্ত আরও ন’টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগ, সাগরে একটি জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে তারা ইরানি তেল পরিবহণে সাহায্য করত। মার্কিন অর্থ দপ্তরের দাবি, বহু জাহাজে ভুয়ো পতাকা এবং জাল শংসাপত্র জোগানের কাজে যুক্ত ছিল এই চক্র। তারপর সেই বাণিজ্যতরীগুলির মাধ্যমে পরিবহণ করা হত ইরানি তেল। এমনকী ইরানের সেনা এবং তাদের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলির হয়েও কাজের অভিযোগ উঠেছে জাহাজগুলির বিরুদ্ধে। এর ফলে বাণিজ্যতরীগুলিও বেশ কিছু সুবিধা পেত বলে দাবি। মার্কিন সরকারের বক্তব্য, ভুয়ো পতাকা-জাল শংসাপত্রের জাহাজগুলি অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে। এমনকী এগুলির কোনও বিমাও থাকে না। ফলে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি কোনও দেশের জলসীমায় দুর্ঘটনার কবলে পড়লে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে সেই দেশ।
মার্কিন সরকারের দাবি, ওই ভারতীয় দম্পতি বিভিন্ন জাহাজকে ভুয়ো পতাকা ও শংসাপত্র প্রদান করতেন। এর ফলে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলির নিয়ন্ত্রণে থাকা জাহাজগুলিও আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হত। এর পাশাপাশি, গোপনে ইরানি তেল পরিবহণের অভিযোগে তুরস্কের একাধিক সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন।
