
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই ফর্ম ৬-কে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বড় সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, যে সমস্ত রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে আর কোনও ডিক্লারেশন জমা দিতে হবে না। উল্লেখ্য, শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এসআইআর প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬ যুক্ত করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দুই নির্বাচন কমিশনারের সেই আপত্তিকেই কার্যত মান্যতা দিল নির্বাচন কমিশন। ফলে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এল।
ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করা হয়। সেই ফর্মে কোনওরকম পরিবর্তন আনার এক্তিয়ার রয়েছে একমাত্র সংসদের। কিন্তু এসআইআর চলাকালীন নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ফর্ম ৬ পূরণ করে নতুন ভোটাররা তালিকায় নাম তুলতে গেলে দিতে হবে একটি ডিক্লারেশন। নির্বাচন কমিশন নতুন ভোটারদের সংযুক্তকরণে (ফর্ম ৬) আবেদনকারীর পরিবারের এসআইআরের তথ্য নিতে শুরু করে। শেষ এসআইআরে আবেদনকারীর বাবা-মা, দাদু-দিদার নাম আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অনলাইন ৬ ফর্মের জে ও কে সেকশনে এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
সেই নিয়েই সুর চড়ান দুই নির্বাচন কমিশনার। বিরোধীরাও প্রশ্ন তোলে, কেন অনলাইনে ফর্ম ৬ জমা দিতে গেলে এসআইআরের ডিক্লারেশন দিতে হচ্ছে? দেশজুড়ে প্রবল চাপের মধ্যে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, এবার ফর্ম ৬ পূরণ করতে গেলে এসআইআরের ডিক্লারেশন দিতে হবে না। পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে এসআইআর মিটে যাওয়া মোট ১৩ রাজ্যে ইতিমধ্যেই নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কমিশন আরও জানিয়েছ, বর্তমানে যেসব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে সেখানেও ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে ডিক্লারেশন ছাড়াই। এতদিন পর্যন্ত অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে গেলে ডিক্লারেশন বাধ্যতামূলক ছিল এসআইআর চলা রাজ্যগুলিতে। কিন্তু সেই নির্দেশ এবার বাতিল করল কমিশন। উল্লেখ্য, এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনার সান্ধু আপত্তি তুলে জানিয়েছিলেন, আইন সংশোধনের পরই ফর্মে সংশোধন করা যাবে। তার আগে নয়। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সেই আপত্তি কানে তোলেননি বলেই দাবি।
