
জলপাইগুড়ি, ১৮ আগস্ট : ধূপগুড়ি উপ নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইতিমধ্যেই। তার ঠিক একদিন পরই নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন তারামণি রায়।
বিজেপির সঙ্গে তারামণির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা জানেন এলাকার মানুষ। পঞ্চায়েতের সদস্যাও ছিলেন তিনি। কেন এমন সিদ্ধান্ত? তারামণির উত্তর ‘বিজেপিই বলবে।’ এই নির্দল প্রার্থীই বিজেপির মাথাব্যাথার কারণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দল আর নির্দলের লড়াই পঞ্চায়েতে একাধিক জায়গায় দেখেছে বাংলা। এবার বিধানসভা উপ নির্বাচনেও দেখা যাবে সেই ছবি!
বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দফতরে উপস্থিত হয়ে তারামণি অনুগামীদের সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বেরনোর পর তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করলাম।’ কেন এমন করলেন, এ ব্যাপারে কোনও সদুত্তর দেননি তিনি। বলেন, ‘আমি কেন এমন করলাম, সেই উত্তর বিজেপিই আপনাদের দেবে।’
১৯৯৮ সাল থেকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত তারামণি রায়। ১৯৯৮ সালে ও ২০০৮ সালে মোট দু বার পঞ্চায়েতের সদস্যাও হয়েছিলেন তিনি। ধূপগুড়ির বারঘরিয়া এলাকায় নেত্রী হিসেবে তাঁর বেশ পরিচিতিও আছে। তাঁর প্রয়াত স্বামীও ছিলেন বিজেপির দাপুটে নেতা।
তারামণি জানান, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরেই প্রাণ হারিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। দলের প্রতি ক্ষোভের কথা অবশ্য সরাসরি জানাননি তিনি। তবে তাঁর অনুগামীরা স্পষ্ট জানান, তাঁদের প্রার্থী পছন্দ হয়নি। প্রার্থী বাছাইয়ের সময় তাঁদের সঙ্গে কেন আলোচনা করা হল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, ধূপগুড়ির বিজেপির প্রার্থী সরকারিভাবে সম্প্ড়তি ঘোষিত হয়েছে। এতে সামাজিক মাধ্যম দলীয় কর্মী সমর্থকদের একাংশ ক্ষোভ দেখিয়েছেন। সরাসরি জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তি করেছেন। এমনকি দলীয় প্রার্থীকে নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ। দিল্লি থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে শহীদ জওয়ান জগন্নাথ রায়ের স্ত্রী তাপসী রায়ের নাম ধূপগুড়ি বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালের ২৫ শে মার্চ শ্রীনগর বারামুলা জাতীয় সড়কে সিআরপিএফের ৭৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা রুটিন টহলদাড়িতে ছিলেন। সেই সময় লস্কর জঙ্গিদের আক্রমণে গুরুতর জখম হয় ধূপগুড়ির পশ্চিম শালবাড়ীর বাসিন্দা সিআরপিএফ জওয়ান জগন্নাথ রায়। এরপর বেশ কয়েকদিন চিকিৎসা চলার পর ২৯ মার্চ মৃত্যু হয় জগন্নাথের। শহীদ জগন্নাথ রায়ের স্ত্রীকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি।
