
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্যসাথীর মতো সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সেই আশঙ্কা দূর করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করা হবে না।
তৃণমূল সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল দু’টি জনমুখী প্রকল্প। একটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং দ্বিতীয়টি স্বাস্থ্যসাথী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় প্রত্যেক মহিলা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে পেতেন। তফশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলা পান ১ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা চালু ছিল। সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আজ থেকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় বাংলা। এছাড়াও ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এদিনের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল:
প্রথম সিদ্ধান্ত: যাঁদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিল রাজ্য সরকার।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত: রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই সীমান্ত রক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজন। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তর করা হবে।
তৃতীয় সিদ্ধান্ত: ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হল রাজ্য।
চতুর্থ সিদ্ধান্ত: রাজ্যের আইপিএস, আইএএসরা কেন্দ্রের কোনও ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারতেন না। এবার থেকে চাইলে তাঁরা পারবেন।
পঞ্চম সিদ্ধান্ত: আজ থেকে রাজ্যে লাগু ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। এতদিন অসাংবিধানিকভাবে আইপিসি লাগু ছিল বঙ্গে।
ষষ্ঠ সিদ্ধান্ত: সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হল।
এদিকে, এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বৈঠক করেন তিনি।
