দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নবদ্বীপে তীর্থভ্রমণে এলে ইতিহাস, ভক্তি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অনন্য সুযোগ মেলে। গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন তীর্থভূমি বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম পীঠস্থান। নবদ্বীপে ঘুরতে এলে এই পাঁচটি মন্দির না দেখলে তীর্থযাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে মনে করেন ভক্ত ও পর্যটকরা।
১। নবদ্বীপ পোড়ামা মন্দির: নবদ্বীপের পোড়ামা মন্দিরকে নবদ্বীপের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। অনেকে নবদ্বীপের পোড়ামা মন্দিরকে নীল সরস্বতী দেবী হিসেবেও জানেন। বছরের প্রত্যেকদিন এই মন্দিরে ভক্তদের পুজো দেওয়ার ভিড় লেগে থাকে।
২। নবদ্বীপ সমাজ বাড়ি: ১৩১২ বঙ্গাব্দে, চরণদাস বাবাজি সমাজ বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুন্দরভাবে সাজানো এই মন্দির চত্ত্বরে গৌর-নিতাই, রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ ছাড়াও চরণদাস বাবাজির পূর্ণ সমাধি মন্দির রয়েছে।
৩। নবদ্বীপের সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির: চৈতন্য মহাপ্রভুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দির, যা তার সোনার মতো উজ্জ্বল অষ্টধাতুর গৌরাঙ্গ মূর্তির জন্য বিখ্যাত এবং ভক্তদের কাছে এটি একটি পবিত্র ও শান্ত স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে মহাপ্রভুর বিশেষ রূপের দর্শন করা যায় এবং দোল পূর্ণিমা, রাস ও ঝুলনের মতো উৎসবে বিশেষ ভিড় হয়।
৪। কোলের ডাঙ্গা মন্দির: নবদ্বীপের জল মন্দির বলতে মূলত শ্রী চৈতন্য সারস্বত মঠকে বোঝানো হয়, যা একটি পুকুরের মাঝে অবস্থিত একটি সুন্দর মন্দির এবং নবদ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ; এটি ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এটি তার অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নবদ্বীপের "জল মন্দির"কে অনেক সময় কোলেরডাঙ্গা মন্দিরও বলা হয়।
৫। নিমাই এর জন্মস্থান: মন্দিরটি নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরে অবস্থিত। এখানে একটি প্রাচীন নিম গাছের নিচে শচীমাতার কোলে শিশু নিমাইয়ের আবির্ভাব ঘটেছিল, এবং এই স্থানেই সেই ঐতিহাসিক নিম গাছ ও একটি মন্দির রয়েছে যেখানে জগন্নাথ মিশ্র ও শচীমাতার মূর্তি রয়েছে, যা চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত।
নবদ্বীপে বেড়াতে এলে এই পাঁচটি মন্দির দর্শন করলে কেবল তীর্থভ্রমণই নয়, বাংলার ধর্মীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীর পরিচয় ঘটে। ভক্তি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে নবদ্বীপ আজও আকর্ষণ করে অসংখ্য মানুষকে।
