
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, শনিবার থেকেই রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই আর্থিক সহায়তা ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগের দিন, অর্থাৎ শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী এই সুবিধা আগেভাগে চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নিজেই ধর্মতলার অবস্থানমঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করেন এবং বলেন, এটি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একটি বিশেষ ‘উপহার’ হিসেবে ধরা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে আবেদনকারীদের ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই প্রকল্প মূলত ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক ও যুবতীদের জন্য, যারা অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য পান না। যাদের বৃত্তি রয়েছে, তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি ছেলেমেয়ে দরখাস্ত করেছেন, যাঁরা অন্য কোনও সাহায্য নেন না। যাঁরা বৃত্তি পান, তাঁদের ধরছি না (সুবিধা পাবেন), পড়াশোনার জন্য সেই টাকা তাঁদের প্রাপ্য।’’
তিনি আরও জানান, রাজ্যে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মোট ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায়। এই জেলা থেকে মোট ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৮৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। এরপরই অবস্থান করছে উত্তর ২৪ পরগণা, যেখানে ৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭০টি আবেদন এসেছে। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেও ৭ লক্ষ ১৪ হাজার ১৩৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করতে রাজ্য জুড়ে ব্লকভিত্তিক শিবির এবং অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
যুবসাথী প্রকল্প প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল চলতি বছরের বিধানসভার অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ওই সময় জানিয়েছেন, ১৫ অগাস্ট থেকে প্রকল্প চালু হবে। কিন্তু পরবর্তীতে নবান্নে সংবাদ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের নতুন সূচি ঘোষণা করেন, যাতে ১ এপ্রিল থেকে আবেদনকারীরা সুবিধা পেতে পারেন। দ্রুত আবেদন গ্রহণের জন্য রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন ব্লক ও জেলা পর্যায়ে শিবির আয়োজন করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির দিন থেকেই রাজ্যে এই শিবিরের মাধ্যমে যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ এবং জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই যুবক-যুবতীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ুক। তাঁদের প্রাপ্য অর্থ যেন সময়মতো পৌঁছে যায়, সেই জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি পাঁচ বছর ধরে চলবে এবং এই সময় প্রতিমাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই অর্থ মূলত পড়াশোনা ও আত্মনির্ভরশীলতার জন্য ব্যবহৃত হবে।
