
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বিজেপি যখন পরিবর্তন যাত্রা বার করেছে, তখন কলকাতায় ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে মঞ্চে উপস্থিত তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী। জেলাগুলি থেকে তৃণমূল বিধায়কেরা লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন মঞ্চে।
ভোটারদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে এই ধর্না বলে জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছেন। উপস্থিত থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। ধর্নামঞ্চে থাকবেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটার, থাকবেন এসআইআরে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত হওয়া ভোটার।
এসআইআর নিয়ে তৃণমূল বনাম নির্বাচন কমিশনের সংঘাত চলছেই। এসআইআর ইস্যু নিয়ে দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছেন মমতা-অভিষেক। শুধু তা-ই নয়, এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেও রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন বলে প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কমিশন বনাম তৃণমূলের সংঘাত ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তার মধ্যে রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফাও ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। এ নিয়েও ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা কী বলেন কিংবা কিছু বলেন কি না, সে বিষয়ে নজর থাকবে।
নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি বললেন, ‘‘লজ্জা রাখার জায়গা নেই। ভোটার তালিকায় মৃতেরা এখানে বসে রয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দেখুন, এঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এঁরা বসে থেকে প্রমাণ দিচ্ছেন, তাঁরা ভাল ভাবে বেঁচে আছেন।’’ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গান গাওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন , বিকেল ৪টে থেকে ‘মিটিং’ চালু হবে।
ধর্নামঞ্চে মমতা বলেন, ‘‘প্রচুর মানুষ আসবেন। যে ২২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু তাঁরা জীবিত, তাঁদের আমি মঞ্চে হাজির করব। এসআইআরের জন্য মারা গিয়েছেন এমন আট পরিবার, যারা দিল্লি গিয়েছিল, তারাও এখানে বসবে। কিন্তু যারা বসে আছে, অথচ মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে... লজ্জা রাখার জায়গা নেই। নির্লজ্জ, বেহায়া বিজেপি পার্টি এবং তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন।’’
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খোঁজ রাখি। তাঁদের আমরা প্যারেড করাব। দেখুন, এঁরা মৃত এসআইআর প্রক্রিয়ায়। কিন্তু তাঁরা ভাল ভাবে বেঁচে। আমরা তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।’’
‘‘আমি রামকৃষ্ণ সারদা মিশন থেকে এসেছি। আজ ১৪ বছর হল মিনাখা রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাতিল করা হয়েছে। আমি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। আমি আজ দিদির কাছে এলাম। বললাম, এ রকম যদি হতে থাকে... সত্যের জয় হোক। এসআইআর যাতে উঠে যায়, ঠাকুর মহাশয়ের কাছে প্রার্থনা করছি।’’
