
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঘুমের মধ্যে বা অফিসে কাজের ফাঁকে হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান ধরা—অনেকেই একে সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই ‘মাসল ক্র্যাম্প’ হতে পারে শরীরের কোনো অভ্যন্তরীণ অভাবের সংকেত। পেশিতে টান ধরার অর্থ হলো আপনার পেশিগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে সংকুচিত হচ্ছে। ব্যথা কমে গেলেই বিষয়টিকে ভুলে যাওয়া ভুল, কারণ এটি বারবার হওয়া মানে আপনার স্নায়ু বা রক্ত সঞ্চালনে কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এই ধরণের উপসর্গ দেখা দিলে সচেতন হওয়া জরুরি।
পায়ের ব্যথা কী কী কারণে হতে পারে?
খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হলে:
শরীরে কেবল জল নয়, নির্দিষ্ট কিছু খনিজের অভাব হলেও পেশিতে টান ধরে। যেমন—
১. ম্যগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম: এই দুটি খনিজ পেশির সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরে এর অভাব হলে পেশিতে টান ধরা স্বাভাবিক।
২. ক্যালশিয়াম: রক্তে ক্যালশিয়ামের মাত্রা কমে গেলেও স্নায়ু অতিসংবেদনশীল হয়ে পড়ে, ফলে পেশিতে টান ধরা বা খিঁচুনি লাগতে পারে।
হৃদরোগের সতর্কবার্তা?
যদি পায়ের ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধা পায়, তবে হাঁটাচলা বা কাজ করার সময় পায়ে তীব্র ব্যথা বা ক্র্যাম্প হতে পারে। একে বলা হয় পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ। সাধারণত বিশ্রাম নিলে এই ব্যথা কমে যায়, কিন্তু এটি হৃদরোগের একটি আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে।
স্নায়ুরোগ!
মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে চাপ পড়লেও পায়ে ব্যথা বা ক্র্যাম্প হতে পারে। সাধারণত বেশি ক্ষণ হাঁটলে বা দাঁড়ালে ওই ব্যথা বাড়ে। তাই ব্যথা নিয়মিত হতে থাকলে উপসর্গ মিলিয়ে দেখুন। যদি মিলে যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত হবে।
দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা:
দীর্ঘদিন ধরে ভোগায় এমন ক্রনিক অসুখ থেকেও পায়ে ব্যথা বা টান ধরার সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমন—
১. ডায়াবিটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে স্নায়ুর ক্ষতি হয়। একে বলা হয় ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, যা থেকে পায়ে অস্বস্তি বা টান ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে।
২. থাইরয়েড: হাইপোথাইরয়েডিজ়ম বা থাইরয়েড হরমোনের অভাব ঘটলেও পেশিতে ব্যথা হতে পারে বা টান ধরতে পারে।
৩. কিডনিররোগ: কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে টক্সিন বা বিষাক্ত বর্জ্য জমে যায়।এতে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা থেকেপায়ে টান ধরে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
উচ্চ রক্তচাপের জন্য ব্যবহৃত ‘ডাই-ইউরেটিক্স’ ওষুধ, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ বা ক্যানসার থেরাপির কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও পায়ে ব্যথা করা বা টান ধরার মতো সমস্যা হতে পারে।
থ্রম্বোসিস সতর্কতা:
যদি দেখেন পায়ে টান ধরার পাশাপাশি পা ফুলে যাচ্ছে, লাল হয়ে যাচ্ছে বা ত্বক বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি ‘ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস’ বা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণও হতে পারে।
