
কলকাতা, ৩০ মার্চ : তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা তো বার বার বলছি, যা কাগজপত্র ফাইল আছে সব বের করা হোক। তাতে কী রয়েছে খতিয়ে দেখা হোক। আসলে আমরা এমনটা বলায় মুখ্যমন্ত্রী আর ফাইল প্রকাশের পক্ষে কথা বলার কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না।’’
বামেরা নিয়োগ দুর্নীতি করলেও তার প্রমাণ রাখেনি বলে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকে সিপিএমকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, ‘‘ওদের একটা ফাইল পাবেন না। হয় চুরি করেছে, নয় পুড়িয়ে ফেলেছে বা লুকিয়ে রেখেছে।’’
বুধবারই রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকে বামেদের আক্রমণ করেছিলেন মমতা। ডিএ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘এমনিতে এরা চিরকুটে চাকরি পেয়েছিল সেই চোর-ডাকাতগুলোর গিয়ে বসে আছে ডিএ-র মঞ্চে।’’ একই সঙ্গে সিপিএমের আমলে নিয়োগে অনিয়মের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রাথমিক, সেকেন্ডারি, হাইস্কুল— যেখানে যা কাগজ বের হচ্ছে, তা সিপিএমের কোঅর্ডিনেশন কমিটি করেছে বিভিন্ন জায়গায় বসে থেকে।
এর পরেই মমতা তুলে আনেন ফাইল প্রসঙ্গ বলেন, ‘‘ওদের একটা ফাইল পাবেন না। ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১০ সালের ফাইল সব লোপাট করেছে। আজ তোমাদের গলার জোর! ওরা যখন (ফাইলে) সইকরে, তখন জায়গা ফাঁকা রাখে। পরে ওখানে লিখে দিয়েছিল। এমন কোনও কাজ নেই, যা কো অর্ডিনেশন (কমিটি) করতে পারে না।’’
এই প্রসঙ্গেই সুজনবাবু বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘‘উনি বলছেন, সব ফাইল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দলই তো বেআইনি ভাবে ১৯৮৭ সালের কাগজ পর্যন্ত বের করে এনেছে। এর পর তো আর এ কথার কোনও যুক্তি থাকছে না। আসলে মুখ্যমন্ত্রী অসত্য কথা বলছেন। কারণ, তিনি বলেছিলেন আমাদের ফাইল দেখাব ফাইল বের করব, আমরা যদি বলতাম, ফাইল বের করবেন না, তা হলে উনি বলতেন, ‘থাক ফাইল বের করলাম না’। কিন্তু আমরা তো তা বলিনি! তাতেই উনি সমস্যায় পড়েছেন।’’
