
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তা নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মোদি সরকার, আর এখন সেই দায় সাধারণ মানুষের উপর চাপানো হচ্ছে।
রবিবার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মোদির বার্তা ছিল, ‘জ্বালানি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযত হন। (যেহেত) ভারত তার প্রয়োজনের বেশিরভাগ জ্বালানিই বাইরে থেকে আমদানি করে।’ এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল মন্তব্য করেছেন, গত তিন পাশ ধরে যুদ্ধ চলছে, এর পরেও দেশের জ্বালানি সুরক্ষার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনাই নেই বিজেপি সরকারের কাছে। বেনুগোপাল বলেন, “ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন মাস পরেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী মোদি এখনও দিশেহারা।” যোগ করেন, “এই বৈশ্বিক সংকটে আমাদের অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সাধারণ নাগরিকদের অসুবিধায় ফেলছেন, তা নির্লজ্জ, বেপরোয়া এবং চূড়ান্তভাবে অনৈতিক।”
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের সিঁদুরে মেঘ ভারতের আকাশে। ভোটপর্ব মেটার পর জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির জল্পনাও মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মোদি জানান, ‘জ্বালানি তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযত হন। ভারত তার প্রয়োজনের বেশিরভাগ জ্বালানিই বাইরে থেকে আমদানি করে।’
তেলেঙ্গানায় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, ”এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হওয়া প্রয়োজন। একান্ত প্রয়োজন হলে তবেই আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করা উচিত দেশবাসীর। এর ফলে আমাদের শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রাই সাশ্রয় হবে না, যুদ্ধের জেরে দেশে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব কমাতেও সাহায্য করবে।” জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জল্পনার মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
