
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সবে এমবিবিএস পাশ করেছেন, অথচ ইন্টার্নশিপের ডিউটি নিজেরা না করে টাকার বিনিময়ে অন্যকে দিয়ে করানোর অভিযোগ উঠেছে একাংশের বিরুদ্ধে। কখনও পুরো দিনের দায়িত্ব, কখনও আবার আট ঘণ্টার ডিউটি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিনিময়ে লেনদেন হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। আরও উদ্বেগের বিষয়, একজনের বদলে অন্য কেউ ডিউটি করতে এলেও হাজিরার খাতায় সই করা হচ্ছে মূল ইন্টার্নের নামেই। ফলে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে তৈরি হচ্ছে ভুয়ো হাজিরার রেকর্ড। জুনিয়র ডাক্তারদের ইন্টার্নশিপের ডিউটি ঘিরে এমনই এক ‘প্রক্সি সিন্ডিকেট’-এর হদিশ সামনে আসায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
তিনি জানিয়েছেন, এভাবে প্রক্সি ডিউটি বন্ধ করতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বায়োমেট্রিক হাজিরা। অভিযোগ, জুনিয়র ডাক্তারদের এই ডিউটি বিক্রির সিন্ডিকেট ছড়িয়ে রয়েছে দু’টি বাদে প্রায় সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজেই। এমনকি ইন্টার্নদের মধ্যে ডিউটি বদলের জন্য তৈরি হয়েছে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। গ্রুপে এক জুনিয়র ডাক্তার লিখেছেন, শনিবার-রবিবারের ডিউটি করে দিলে ভালো টাকা মিলবে। কেউ আবার প্রতিদিন দু’ঘণ্টার দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দিতে চাইছেন। ডিউটি অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে রেট চার্ট। কোথাও ঘণ্টাপিছু ২০০ টাকা, কোথাও আবার আড়াইশো টাকা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে এই প্রবণতা চলছে। তৃণমূল জমানায় তথাকথিত ‘নর্থবেঙ্গল লবি’র অঙ্গুলিহেলনে থ্রেট কালচার চালানোয় অভিযুক্ত অভীক দে ও বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের আমল থেকেই ডিউটি বিক্রির এহেন কারবার চলে আসছে। শুধু ইন্টার্ন নয়, সিনিয়র রেসিডেন্ট এবং হাউসস্টাফদের একাংশও ডিউটি বিক্রি করছেন বলে খবর পেয়েছেন তিনি। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এসে অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিউটি করা, পুজোর সময়ে বেশি টাকার বিনিময়ে এই কাজের প্রবণতাও রয়েছে বলে দাবি মন্ত্রীর।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ডেন্টাল সায়েন্সের লোকজনকে ভাড়া করে এনে ডিউটি করানোর অভিযোগও তুলেছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে এমবিবিএস ইন্টার্নদের ডিউটি করানোর অভিযোগও সামনে এনেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রীর বক্তব্য, “নিজেদের শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা সামনে এলে পদক্ষেপ করা হবে।”
