
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক : বারাণসীর ধাঁচে এবার গঙ্গা আরতি হবে কলকাতায়। সব ঠিকঠাক চললে আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতার বাজেকদমতলা ঘাটে এই উদ্যোগের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে নাগাদ ১৫ জন পুরোহিতের উপস্থিতিতে শুরু হতে পারে এই গঙ্গা আরতি। সেই অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে হাজির থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী, মেয়র, মেয়র পরিষদ নিকাশি-সহ কলকাতা পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকেরা। গঙ্গা আরতি শুরু করার পাশাপাশি, একটি দেবী গঙ্গার মূর্তিও উন্মোচন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে বারাণসীতে গঙ্গা আরতি দেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে অংশগ্রহণ করতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ফিরে এসেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতায় গঙ্গা আরতি শুরুর আয়োজন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরেই কাজ শুরু করেছিল কলকাতা পুরসভা। বৃহস্পতিবার থেকে সেই গঙ্গা আরতি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে গঙ্গা আরতির মহড়া চলেছে বাজেকদমতলা ঘাটে। যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত দেখে বৃহস্পতিবার গঙ্গা আরতি সূচনার দিন ঠিক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মেয়র ফিরহাদ বাজেকদমতলা ঘাটের প্রস্তুতি পরিদর্শন করে এসেছেন। পাশাপাশি, কলকাতা পুলিশের তরফেও পৃথক ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গঙ্গা আরতি হবে বলে বাজেকদমতলা ঘাটকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে কলকাতা পুরসভা। নতুন আলো লাগানোর পাশাপাশি, ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গা আরতির সূচনা করে দিলে তা আগামী দিনে পর্যটকদের দেখার জন্য খুলে দেওয়া হবে। সঙ্গে একটি লেজার শোর আয়োজন করা হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে উপযুক্ত বন্দোবস্ত করা হয়েছে পুরসভার তরফে।
কলকাতা পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার পরেই কোন ঘাটে গঙ্গা আরতি শুরু করা যায় সেই ব্যাপারে সমীক্ষা করেছিল পুরসভা। বাজেকদমতলা ঘাটের পাশাপাশি, বাবুঘাট ও প্রিন্সেপ ঘাটের কথাও ভাবা হয়েছিল। কিন্তু গঙ্গা আরতি এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা, এই দু’য়ের সঠিক পরিকল্পনা যেখানে কার্যকর করা যায় তা বিবেচনা করা হয়। তার পরেই বাজেকদমতলা ঘাটকে গঙ্গা আরতির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরসভার আধিকারিকের দাবি, বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের জন্য আগামী দিনে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে এই গঙ্গা আরতি।
