International

1 week ago

EAM Jaishankar: এআই-এর রূপান্তর যেন নতুন বিভাজন তৈরি না করে, এস জয়শঙ্কর

External Affairs Minister S Jaishankar
External Affairs Minister S Jaishankar

 

নিউইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর : বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে যে অভূতপূর্ব প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটছে, তা যেন কোনও বৈষম্য বা বিভাজন তৈরি না করে— এই জোরালো বার্তা তুলে ধরেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার অধিবেশনের ফাঁকে সমমনস্ক ‘গ্লোবাল সাউথ’ ও বন্ধু দেশগুলির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "বিশ্বের যাবতীয় সংকটের ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি প্রথম সারিতে থাকলেও, সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে পেছনের সারিতে।"

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে গভীর অনিশ্চয়তায় ঘেরা বলে চিহ্নিত করে জয়শঙ্কর বলেন, "সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য প্রাচীর এবং জলবায়ু সংকটের মতো নানাবিধ চাপে এখন আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মকানুন চরম পরীক্ষার মুখে। যে প্রতিষ্ঠানগুলি এক ভিন্ন যুগে গড়ে উঠেছিল, সেগুলি এখনও সেই পুরোনো যুগের ক্ষমতার সমীকরণকেই ধরে রেখেছে। অতীতে যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছে আমরা সমাধানের প্রত্যাশা করতাম, আজ তারা নিজেরাই এক একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে।"

এই জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থরক্ষায় তিনি ৭ দফা রূপরেখা তুলে ধরেন: প্রথমত, সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), অর্থায়ন কিংবা আন্তর্জাতিক সংযোগ— কোনও ক্ষেত্রেই কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা বা আধিপত্যবাদ বরদাস্ত করা হবে না। দ্বিতীয়ত, উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো শক্তি নিরাপত্তা। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে জ্বালানির জোগান ও দাম নিয়ে কারসাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শস্য এবং সারের অবাধ সরবরাহের পথে আসা যাবতীয় বাধার দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। চতুর্থত, গ্লোবাল সাউথকে কেবল নিছক ভোক্তা হিসেবে দেখলে চলবে না; তাদের উৎপাদন ক্ষমতা ও শিল্পায়নের ন্যায্য অধিকার স্বীকার করতে হবে। পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষা, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের সার্বিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ষষ্ঠ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যে ডিজিটাল রূপান্তর ঘটছে, তা যেন প্রযুক্তিগত বৈষম্য বাড়িয়ে নতুন কোনো অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি না করে। সপ্তমত, ভবিষ্যৎ ও নীতি নির্ধারণের যাবতীয় আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও ক্ষমতা কাঠামোয় গ্লোবাল সাউথের ন্যায্য ও প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে হবে।

You might also like!