
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃসুদানে লড়াইরত সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। দুই পক্ষের কমান্ডারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন কথা বলার পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। এর আগে রাজধানী খার্তুমে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক গাড়িবহরে গুলির ঘটনা ঘটে।
সুদানের ক্ষমতাসীন সামরিক পর্ষদের সদস্য সেনাবাহিনীর জেনারেল শামস আল-দিন কাব্বাশি আমিরাতভিত্তিক আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে বলেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হবে। তবে ২৪ ঘণ্টার বেশি এই যুদ্ধবিরতির সময় বাড়বে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাদাভাবে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো ওরফে হেমেদতির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এই দুজনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুরু হওয়া লড়াইয়ে দেশজুড়ে কমপক্ষে ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন।
সুদানে দুই বাহিনীর মধ্যে চলা এই লড়াইয়ের ফলে কয়েক দশকের স্বৈরশাসন ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশটির বেসামরিক শাসনে ফেরার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমর্থিত পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে আরএসএফের প্রধানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো কিছু প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি বলেছেন, বেসামরিক লোকজন ও আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছে আরএসএফ।
এক টুইটে জেনারেল হেমেদতি আরও বলেন, ফোনালাপে ‘তাৎক্ষণিক করণীয় বিষয়গুলো’ নিয়ে ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। আরও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্লিঙ্কেন বলেন, মার্কিন দূতের ওপর হামলার সঙ্গে আরএসএফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে প্রাথমিক খবরগুলোতে জানা গেছে। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে ‘বেপরোয়া’ আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মীরা অক্ষত রয়েছেন। মার্কিন কূটনীতিকদের প্রতি হুমকি ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে জানিয়ে জেনারেল শামস কাব্বাশি বলেন, দুটি প্রতিবেশী দেশ আরএসএফকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। তবে দেশ দুটির নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
এদিকে গতকাল সকালেও রাজধানীতে যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার পরপরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
