
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে ছট পুজো মানেই চার দিন ধরে ভক্তি, নিষ্ঠা ও উৎসবের আবহ। সূর্যদেব এবং ছঠী মাইয়ের আরাধনায় মেতে ওঠেন রাজ্যের অসংখ্য মানুষ। রাঁচি-সহ বিভিন্ন এলাকার নদীঘাট ও জলাশয় সেজে ওঠে পুজোর প্রস্তুতিতে। ঘাট পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা—সব দিকেই থাকে বিশেষ নজর। পরিবারের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনায় ব্রত পালন করেন ভক্তরা। লোকাচার, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে ছট পুজো ঝাড়খণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে ছট পুজোর প্রধান প্রস্তুতি ও আচার:
• ঘাট পরিষ্কার ও আলোসজ্জা: রাঁচির বিভিন্ন ঘাটে প্রতিদিন ৫০ হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। নদীঘাট ও পুকুরগুলো পরিষ্কার করে হাজার হাজার প্রদীপ ও আলো দিয়ে সাজানো হয়।
• প্রথম দিন (নহায়-খায়): ঘরবাড়ি ও রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন করা হয়। পুণ্যার্থীরা নদী বা জলাশয়ে পবিত্র স্নান সেরে সাত্ত্বিক খাবার (যেমন—কড্ডু ভাত ও মসুর ডাল) গ্রহণ করেন।
• দ্বিতীয় দিন (খরনা): সারাদিন উপবাস রাখার পর সন্ধ্যায় গুড়ের খির, রুটি ও ফল দিয়ে সূর্য দেবতাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। এরপর ব্রতীরা ৩৬ ঘণ্টার নির্জলা (জল ছাড়া) উপবাস শুরু করেন।
• তৃতীয় দিন (সন্ধ্যা অর্ঘ্য): বাঁশের তৈরি ডালা বা সুরীয়ায় ঠেকুয়া, ফল, ডাবের জল ও নানা সামগ্রী সাজিয়ে নদীর ঘাটে যাওয়া হয়। অস্তগামী সূর্যকে প্রথম অর্ঘ্য দেওয়া হয়। ঘাটে ঐতিহ্যবাহী লোকগীতি ও ভক্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
• চতুর্থ দিন (উষা অর্ঘ্য): উদয়গামী সূর্যকে অর্ঘ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে চারদিনের এই ব্রত বা উৎসব সমাপ্ত হয় এবং পুণ্যার্থীরা পারণ করে উপবাস ভঙ্গ করেন।
