
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। দ্রুতগতিতে চলা দু’টি যাত্রিবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে একাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার পর থেকেই জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রেন দু’টির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়নি। বরং একই রেলপথে চলার সময় দ্রুতগতির দু’টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সংঘর্ষের অভিঘাতে ট্র্যাক থেকে ছিটকে পড়েছে যাত্রিবাহী ট্রেনের একাধিক কামরা। ঘটনার জেরে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া পর্যন্ত পর্যন্ত হাইস্পিড রেল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে টোলেডো প্রদেশে দু’টি হাইস্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১০ বলে জানানো হয়েছিল। তবে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। দুর্ঘটনার জেরে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া পর্যন্ত হাইস্পিড রেল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে স্পেনের টোলেডো প্রদেশের উর্দা এলাকার কাছে, মাদ্রিদ-সেভিয়া রেলপথে। স্পেনের রেল পরিকাঠামো পরিচালনকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, একটি ট্রেন থেমে থাকার সময়ে পিছন থেকে আসা অন্য একটি হাইস্পিড ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দেয়। এর জেরে অন্তত চারটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নীচে নেমে যায়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। কী ভাবে একই লাইনে দু’টি ট্রেন এল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাগ্রস্থ ট্রেন দু’টির একটি ছিল স্পেনের রাষ্ট্রায়ত্ত রেল সংস্থা রেনফে (RENFE)-র হাইস্পিড ট্রেন এবং অন্যটি, বেসরকারি সংস্থা ইরিও (IRYO)-র একটি ট্রেন। স্থানীয় সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানিয়েছেন, রেনফের ট্রেনে ৩৯৭ জন এবং ইরিওর ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অর্থাৎ, দু’টি ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২০০ জন আহত বলে অনুমান। সংঘর্ষের অভিঘাতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটি বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া কামরাগুলি। সেখানে আটকে পড়া যাত্রীদের বার করার কাজে নেমেছে উদ্ধারকারী দল। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল, দমকল এবং চিকিৎসকরা। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনটি মেডিক্যাল হেলিকপ্টার এবং দু’টি মোবাইল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট তৈরি করা হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের সাহায্য করতে উর্দা শহরের একটি স্পোর্টস প্যাভিলিয়ন প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পরো মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যে হাইস্পিড রেল পরিষেবা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই রুটে যাতায়াতকারী বহু যাত্রীর ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিষেবা কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিগন্যালের সমস্যা, ট্রেনের গতি কিংবা চালকের কোনও ভুল ছিল কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবহণমন্ত্রী এবং কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রশাসনের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করাই এখন অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখেও ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন বলে খবর।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দক্ষিণ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই ঘটনায় ৪৫ থেকে ৪৬ জন প্রাণ হারান। পরপর এমন দুর্ঘটনায় স্পেনের উন্নত হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বুধবারের দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছে প্রশাসন।
