
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ 'দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স' ৯৫ তম একাডেমি পুরষ্কারে বিজয়ী হবার সাথে সাথে শর্ট ডকুমেন্টারিসাবজেক্ট বিভাগে ভারতের জন্য অস্কার এনে দিলেন গুনীত মঙ্গা। তবে ভারতের জন্য গুনীত মঙ্গা আটি প্রথম অস্কার জয় নয়, এর আগে ২০১৯ সালে 'পিরিয়ড. এন্ড অফ সেন্টেন্স' ডকুমেন্টারি শর্ট সাবজেক্টে এর আগেও দেশকে অস্কার এনে দিয়েছিল।
'দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স' তথ্যচিত্রের প্লটটি একটি পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে যারা তামিলনাড়ুর মুদুমালাই টাইগার রিজার্ভে দুটি অনাথ শিশু হাতি দত্তক নেয়। গল্পে দুটি পরিত্যক্ত হাতি এবং তাদের তত্ত্বাবধায়কদের মধ্যে একটি অটুট বন্ধন চিত্রিত হয়েছে। এই তথ্যচিত্রটি শিক্ষা এন্টারটেইনমেন্টের গুনীত মঙ্গা এবং অচিন জৈন প্রযোজনা করেছেন। ছবিটিতে আবেগ ও নিঃশর্ত ভালবাসার যে মিশ্রন তা দর্শকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গুনীত তার প্রতিক্রিয়া জানাতে একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন-" আমি শিহরিত যে একটি ভারতীয় প্রোডাকশনের জন্য প্রথম দু'জন মহিলা অস্কার জিতেছে।" তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে কারোর প্রতি যত্নশীল হওয়া সব থেকে কঠিন কাজ, অন্যকে যত্ন তে করতে নিজের ধী -শক্তি এবং মননশীল মানসিকতার প্রয়োজন। যে যত্ন করতে জানে সে সব সীমা কে অতিক্রম করতে সক্ষম। আমাদের দেশের অদিবাসী সম্প্রদায় বরাবরই প্রকৃতির খুব কাছে তাদের অবস্থান, তাদের জীবনধারা থেকে এবং তাদের বিশ্বাস থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বোমন এবং বেলি শুধুমাত্র রঘুর জীবনের একটি অংশ হয়ে ওঠে, শুধুমাত্র একটি অনাথ হাতিকে লালন-পালন ও সুস্থ করেনি একটি জীবের প্রতি তাদের ভালবাসা এবং আবেগ বর্তমান সমাজের জন্য একটি প্রাসঙ্গীক বিষয়। বোমান, রঘু ও বেলি তাদের মধ্যে অটুট সম্পর্ককে চিত্রিত করতে খুবই ছোট ছোট এবং মনোগ্রাহী বিষয় তুলে ধরেছেন , কোথায় দেখা যায় বোমান আর রঘু আকই সাথে পুকুরে একই সাথে স্নান করছে, এবার কোথাও বেলি তার হাত দিয়ে রঘুকে খাওয়ায় যেমন সে তার নিজের সন্তানকে খাওয়ায়। এই ভালবাসাই রঘুকে সুস্থ করে তোলার সাথে সাথে এক অটুট পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।
আমরা সত্যিই আশা করি যে বোমন, বেলি এবং রঘুর এই অসাধারণ গল্পের মাধ্যমে, আমরা নিজেদের, আমাদের সম্প্রদায়, আমাদের পরিবেশ এবং সহ-অস্তিত্বকারী প্রাণীদের মধ্যে ভালবাসা খোঁজার নতুন উপায় আবিষ্কার করতে সক্ষম হব।
পরিচালক কার্তিকি গনসালভেস তার প্রতিক্রিয়া জানাতে বলেন- "আমাদের এবং আমাদের প্রাকৃতিক জগতের মধ্যে পবিত্র বন্ধনের জন্য, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সম্মানের জন্য এবং অন্যান্য জীবিত প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতির জন্য এবং সহাবস্থানের জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি"। .
