
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বার্তার পর তিনি নিজেও কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একই পথে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও কনভয়ের গাড়ি কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল সপ্তাহে একদিন গণপরিবহনে যাতায়াতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যাতে পেট্রোল-ডিজেলের খরচ কমানোর বার্তা দেওয়া যায়।
আজ, বুধবার বিধানসভায় রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়করা শপথগ্রহণ করেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল জোগানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই আবহে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে বড় বার্তা দেন। জ্বালানি তেল সঞ্চয়ের জন্য নিজেদের গাড়ি না চালিয়ে কিছু ক্ষেত্রে পাবলিক ট্রান্সপপোর্টে চলাচলের কথাও তিনি বলেন। সেই বার্তা অনুসারে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর কথা বলেছেন। এদিন অপ্রয়োজনীয় গাড়ি কমানোর কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে বললেন, “নিরাপত্তারক্ষীদের বলেছি অপ্রয়োজনীয় গাড়িগুলোকে সরিয়ে দিতে।”
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও একইভাবে পেট্রোল, ডিজেল সাশ্রয়ের জন্য বড় বার্তা দিলেন। জ্বালানি খরচ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে এবার সপ্তাহে এক বা দু’দিন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিজের দপ্তরে যাওয়ার কথা বললেন তিনি। সাধারণ মানুষ যেমন বাস-সহ অন্যান্য গণ পরিবহণে যাতায়াত করেন, তেমনই তিনি যাতায়াত করবেন। তিনি ‘কেউকেটা’ নন, সেই কথাও জানিয়েছেন। একসময় বাসে, ট্রামে তিনি যাতায়াত করেছেন, সেই কথাও এদিন স্মরণে আনেন। কিন্তু মন্ত্রীর নিরাপত্তার কী হবে? সিকিউরিটি নিয়ে বললেন, “রাখে হরি মারে কে।” শুধু তাই নয়, গণপরিবহণে যাতায়াতা করলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়। মানুষজন কী ভাবছেন, তারও আন্দাজ পাওয়া যায়। সেই কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
রাজ্যের ১২১ টি পুরসভা ও ৭ টি পুরনিগম এলাকায় সিসি ক্যামেরায় নজর রাখতে সক্রিয় হচ্ছে সরকার। পুর দপ্তর থেকে সরাসরি চলবে নজরদারি। বুধবার বিধানসভা থেকে এমনটাই জানিয়েছেন পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজ্যের কোন পুরসভা এলাকায় কী কাজ চলছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের ক্ষমতা বিজেপির হাতে গেলেও পুরসভা ও পুরনিগমগুলি এখনও তৃণমূলের দখলে। এই অবস্থায় তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলির কর্মকাণ্ডের সবিস্তার তথ্য পেতেই পুর-এলাকাগুলিতে নজরদারি চালাতে চাইছে সরকার। এমনটাই মনে করচে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, শুধুমাত্র পুর এলাকা নয়, পুরসভার দপ্তরগুলিতেও চলবে নজরদারি। কখন কে অফিসে আসছেন, কে বেরোচ্ছেন সবটার উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ নজর থাকবে কেন্দ্রীয়ভাবে। প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের ব্যলট বলছে কলকাতার ১০০ বেশি ওয়ার্ডে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরের সিঁথি থেকে দক্ষিণে জোকা, টালিগঞ্জ, গড়িয়া-সর্বত্রই একই ছবি। ভোটাররা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিশ্রুতি বা কথা না শুনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপির প্রতি আস্থা রেখে ব্যাপকহারে দলবেঁধে পদ্মফুলে বোতাম টিপেছেন। নির্বাচনী স্বাভাবিক নিয়মে এবছরের ডিসেম্বরেই কলকাতায় পুরভোট হওয়ার কথা। তবে চাইলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য সরকার পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে আগেও পুরনির্বাচন করতে পারে। সেক্ষেত্রে এক্ষুনি ভোট হলে বিজেপি ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিধানসভা ভোটে এগিয়ে থাকা শুধু শতাধিক নয়, আরও অনেক বেশি আসন জিতবে বলে দাবি পদ্মশিবিরের। এ অবস্থায় রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় নজরদারি বাড়াতে তৎপর রাজ্য সরকার।
